করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ

অবশ্যই পরুন

সারা বিশ্বে করোনাকে মহামারী ঘোষনা করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সারা দেশকেও ঝুকিপূর্প ঘোষণা করেছেন সরকার। বরিশালেই বেড়ে চলছে করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বরিশালে নিরালশভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বরিশালে মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। পুলিশ কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার এর নেতৃত্বে শুরু থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছেন তারা। নগররীর বিভন্ন সড়কে সর্বপ্রথম জিবানুনাশক স্প্রে ছিটানো কার্যক্রম শুরু করেন বিএমপি। পরে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী জনসাধারনকে ঘরে রাখার জন্য ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাইকিং, লিফলেট বিতরন শুরু করেন। পরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোষ্ট বসিয়ে বিনা কারনে যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। অকারনে রাস্তায় বের হওয়া কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। এছাড়া চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে নগরীর সকল প্রবেশদ্বারে।

বিএমপি সূত্রে জানা যায়, করোনা রোধে নগরীতে অপ্রয়োজনী ঘোরাফেরা/যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে ইতিমধ্যে নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন কড়াপুর স্টিল ব্রিজ, রহমতপুর মোড়, লাকুটিয়া সড়ক, নতুল্লাবাদ, গাড়িয়ার পাড়, কোতয়ালী থানাধীন কালিজিরা ব্রিজ, রূপাতলী, বন্দর থানাধীন তালুকদার হাট, খয়রাবাদ ব্রিজ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোষ্ট স্থাপন করে অভিযান সফল করতে সকলস্তরের অফিসারবৃন্দ দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই নয় মানবিক পুলিশিং এর মাধ্যমে কর্মহীন ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন বিএমপি।

এছাড়া বিএমপি কমিশনারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সুরক্ষায় শুরু থেকেই বিএমপি পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়মতি থার্মাল মিটারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিটামিন সি, ডি, জিংক ট্যবলেট ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়। এর পাশাপাশি জীবানুনাশক স্প্রে কক্ষপথ পেরিয়ে ব্যরাকে প্রবেশ পরবর্তী অবশ্যই করনীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো নিয়মিত তদারকি করা করা, পুলিশ লাইন্সে অবস্থানরত সকল সদস্যদের জন্য খাবার মেসে গরুর খাঁটি দুধ, ডিম সরবরাহসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্ধক ইম্প্রুভ ডায়েট কার্যকর করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে মনোবল উন্নত রেখে নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বলয়ে রেখে করোনা মোকাবেলায় আরও অনুপ্রাণিত হয়ে অর্পিত দায়িত্বে নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে বিএমপি পরিবার।

এছাড়া করোনা আক্রান্ত কিংবা করোনা সন্দেহে মৃত কারো পাশে যখন কেউ না আসে ঠিক তখন বিএমপি কমিশনারের নির্দেশে মৃত ব্যক্তির দাফন কাজ সম্পন্ন করছেন পুলিশ।

করোনা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশেরও বেশ কয়েকজন সদস্যের শরীরে করোনা পজেটিভ এসেছে।

করোনা প্রতিরোধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে পুলিশ কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেন, ‘যখন থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে লক্ষ করা গেছে প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আমাদের পুলিশ বিভাগের তরফ থেকে যখন থেকে আমরা নির্দেশনাগুলো পেয়েছি, প্রথম থেকেই সারা বাংলাদেশের ন্যায় বরিশাল মেট্রাপলিটন পুলিশও কিন্তু কাজ করে চলছে করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায়। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে এসেছে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, পরবর্তীতে যারা বিদেশ থেকে নয় আক্রান্ত এড়িয়া বিশেষ করে ঢাকা-নারায়গঞ্জ প্রচুর পরিমানের মানুষ যারা এ অঞ্চলে বসবাস করে তারা কিন্ত চলে এসছে তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে লিফটে বিতরন, মাইকিং করে প্রচার-প্রচারনা করেছি, আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমরা এগুলো বোঝানোর চেষ্টা করেছি।’

নগর পুলিশের প্রধান বলেন, ‘এছাড়া আমরা আমাদের ডিউটিটাকে এমনভাবে সাজিয়েছি বিশেষকরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কড়াকড়ি চেকপোষ্ট এবং পেট্রোলপার্টির মাধ্যমে বিশেষ করে আমরা জনগনকে সম্পৃক্ত করেছি, কমিনিউটি পুলিশিং সহ যারা সামাজিক নানা কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত আছেন তাদের সবাইকে সম্পৃক্ত করে কিন্তু সত্যিকারের সামাজিক দূরত্ব বজায়, মানুষকে ঘরে রাখার প্রকিৃয়া আছে সেটি কিন্তু বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ করে চলছে।’

পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা যারা কাজ করছেন তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিজেদের সচেতনতা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেয়েই কিন্তু তারা কাজ করছেন।’

শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘বিশেষ করে এরকম যখন একটি বৈশিকমহামারী, একটি বিপরর্যয় যখন দেশে কাজ করে তখন পুলিশ কিন্তু মানবিকমূল্যবোধ থেকে সে কিন্তু তার বিধিবধ্য কাজ তার মধ্যে গন্ডিবন্ধ হয়ে থাকতে পারে না। যখন সার্বিক মানবিক বিপর্যয় ঘটে, মানবিক আবেদন থাকে সেটাতে কিন্তু পুলিশও সাড়া দেয় তেমনি আমরা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে বিশেষ করে যারা মধ্যবিত্ত, নি¤œ মধ্যবৃত্ত যারা কোথাও তালিকাভুক্ত হতে পারেনি বা কাউকে বলতে পারছেন না এই ধরনের যাদের সাথে আমাদের সাথে ফেইসবুক, আমাদের হটলাইন সহ বিভিন্ন ভাবে খবর পাই আমরা তাদের ঘরে মানবিক সাহায্য হিসেবে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। যতদিন এই করোনার প্রাদুর্ভাব থাকবে এটা আমাদের সাধ্যঅনুযায়ী আমরা করে যাবো।’

করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে বরিশাল নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘বরিশালেও এখনও ব্যপক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়নি কিন্তু আমরা অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি সুতারং আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি পালন করে চলবো, সবাই ঘরে থাকবো, সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবো, মাক্স পরবো, হ্যন্ড স্যানিটাউজার বা সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখবো এবং অহেতুক অকারনে আমরা ঘরের বাহিরে বের হবো না। আমরা যদি সঠিকভাবে বরিশালে ব্যক্তি জীবনে, পারিবারিক জীবনে ও সামাজিক জীবনে নিয়মগুলো প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তাহলে কিন্তু বরিশালে ভালোটাই ধরে রাখতে সক্ষম হবো।’

এদিকে বরিশালে করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে মেট্রোপলিটন পুলিশের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিএমপি কমিশনার সহ সকল পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

সম্পর্কিত সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

ডাসারে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই দক্ষিণ মাইজপাড়া পানিতে পড়ে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১ টার দিকে উপজেলার...