বরিশালে মাছ বাজারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনি খেল কথিত ছাত্রলীগ নেতা

অবশ্যই পরুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ  বরিশাল সদর উপজেলার তালতলী মাছ বাজারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনি খেয়েছে মিলন আকন (৩০) নামের কথিত এক ছাত্রলীগ নেতা। মঙ্গলবার সকালে সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহপন্থীদের নিয়ে মাছ বাজারটি দখল নেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের কাজ থেকে চাঁদা উত্তোলন করতে গিয়ে বেদম মারধরের শিকার হয়েছে। এবং সেই সময় তার সাথে থাকা আরও অন্তত ১৫/২০ যুবককেও পিটুনি দিয়েছে। আহত মিলনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সদর উপজেলার তালতলী বাজারটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ না করায় বরিশালে যখন যে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা সম্পূর্ণ থাকেন তাদের কর্মীরাই টাকা তোলেন। গত ৫ বছর ধরে এই বাজারটি বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ঘনিষ্ট মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল নিজের আয়ত্বে রাখেন। এবং তার ঘনিষ্ট উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার বিএনপির নেতা মিরাজ সিকদার, কালু সিকদার এবং নিজাম সিকদার সেখানকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন অর্থ তুলতেন।

১২ জুন ভোটে আবুল খায়ের ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত মেয়র নির্বাচিত হলেও স্থানীয় কাউন্সিলর আবিদ এবং বরিশাল সদর আসনের এমপি জাহিদ ফারুক সমর্থিত চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা বাজারটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এনিয়ে কয়েকদিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

জানা গেছে, আ’লীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুলের লোকেরা বাজারটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার খুব সকালে সিটি মেয়র খোকনপন্থী ওয়াশিম দেওয়ানের অনুসারী কাজিবাড়ি মসজিদ এলাকার বাসিন্দা কথিত ছাত্রলীগ নেতা মিলনকে ভাড়া করে নিয়ে আসে। সকাল ৭টার দিকে মিরাজ, কালু এবং নিজাম কথিত ছাত্রলীগ নেতা মিলনকে নিয়ে বাজারে এক ধরনের ত্রাস সৃষ্টি করে এবং ব্যবসায়ীদের মাছ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করে দেয়। এমনকি মিলন হারুন নামের এক ব্যক্তির অটোরিকশা থামিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫০০ টাকা নিয়ে যায়। মূলত এর পরপরই সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা এবং মিলনসহ চাঁদাবাজদের ধরে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে কালু মিরাজদের আগন্তত গুন্ডাবাহিনী যে যার মতো করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, ভাটিখানা এলাকার উঠতি যুবক মিলনের দলীয়ভাবে কোনো পদ-পদবি না থাকলেও সে নিজেকে সিটি মেয়র আবুল খায়ের এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য ওয়াশিম দেওয়ানের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে বহুমুখী অপকর্ম করে আসলেও এবার ধরে খেয়ে গেছে মৎস্য বন্দরে হানা দিতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে।

এই সম্পর্কে মিলনের কোনো বক্তব্য না পাওয়া গেলেও যুবলীগ নেতা ওয়াশিম দেওয়ান বলছেন, তালতলী বাজারে যারা অঘটন ঘটিয়েছেন, তারা সকলে আমাদের দলীয় লোক হলেও এখানে কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিহিত নেই। তবে শহর ছাত্রলীগ নেতা দাবিদার মিলন কেনো সাদিক অনুসারীদের হয়ে সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা চাইলেন- এমন প্রশ্নে কোনো সদুত্তোর দেননি যুবলীগ নেতা ওয়াশিম। ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুদোহা আবিদের বক্তব্যও অনুরুপ, তিনি জানিয়েছেন, পুরো বাজারটিতে তার ওয়ার্ডের বেশি লোকজন ব্যবসা করেন।

কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। তকে কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। পরবর্তীতে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

দীর্ঘ সাত বছর পরে উজিরপুর হাসপাতাল ব‍্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

অবশেষে বরিশালের উজিরপুরে দীর্ঘ ৭ বছর পরে উপজেলা হাসপাতাল ব‍্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। ২রা মার্চ সকাল ১০ টায় উজিরপুর...