বাবুগঞ্জে জামায়াত সন্ত্রাসীদের কোপে গুরুতর জখম আ’লীগ নেতা সহোদর

অবশ্যই পরুন

বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাইকে হত্যার চেষ্টায় কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে জামায়াতপন্থী প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা বাজার নামক স্থানে ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন বটতলা এলাকার আব্দুর রশিদ হাওলাদারের ছেলে ও চাঁদপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শামীম হাওলাদার এবং তার ছোটভাই যুবলীগ কর্মী ফয়সাল হাওলাদার।

 

গুরুতর আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেছে স্থানীয়রা। আহতদের মধ্যে শামীম হাওলাদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাথেসাথে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফয়সাল হাওলাদার জানান, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন তাদের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আমজাদ আলীর ছেলে জামাল হোসেন গংদের বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার দুপুরে তাদের চাচাতো ভাই মাসুদ করিমের বাড়ি দখল করতে আসেন জামায়াত নেতা ও শিবিরের সাবেক ক্যাডার জামাল হোসেনের নেতৃত্বে তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। এসময় তার বড়ভাই শামীম এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।

 

ফয়সাল হাওলাদার আরও জানান, ঘটনার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের জামাল হোসেনের নেতৃত্বে হারুনুর রশিদ, রাতুল ইসলাম বাবু, আনসার উদ্দিন ও শাকিলসহ তাদের সহযোগী ১০-১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী শামীম হাওলাদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় বড়ভাই শামীমের আর্তচিৎকারে তিনি তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা।

 

আহতদের স্বজন ছাড়াও বটতলা বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী মশিউর রহমান সৈকত ও সায়েদুর রহমান জানান, ঘটনার মূল হোতা জামাল হোসেন জামায়াত ইসলামের একজন প্রভাবশালী নেতা ও ছাত্রশিবিরের সাবেক ক্যাডার। একজন উগ্রবাদী সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিত। তার স্ত্রীও জামায়াত ইসলামের মহিলা রোকন। জামাল হোসেন ২০১৪ সালে বাবুগঞ্জ থানায় জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ মামলার অন্যতম আসামী ছিলেন। সেসময় কিছুদিন পলাতক থাকার পরে টাকার জোরে তিনি আবার এলাকায় ফিরে আসেন। এলাকায় ফিরে মানুষের জমিজমা জবরদখলসহ দীর্ঘদিন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছেন। সন্ত্রাসী জামাল বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী এখন অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

 

এদিকে ওই হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পরে তিনি গাঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাহিদ বিন আলম জানান, হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও অভিযুক্তদের পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে থানায় ইতোমধ্যে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলা রেকর্ড করে ঘটনা তদন্তের জন্য ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার তদন্ত ওসি ফয়সালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

কালকিনিতে বিষাক্ত সাপের ছোবলে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

মাদারীপুরের কালকিনিতে মাটির গর্তের মধ্যে থেকে মাছরাঙা পাখির ছানা ধরতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের ছোবলে আবু হুমাইদ (১১) নামে এক...