গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক নারী গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করতেন। তবে সংস্কার কাজের কারণে উচ্ছেদ হওয়ার পর পাশেই একটি ঝুপড়িতে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি পাশের একটি বাড়ির বারান্দায় রাতযাপন করতেন। গত ১৭ মার্চ ওই এলাকার আলমগীরের বাড়ি থেকে ১২ আনা স্বর্ণ ও ৪ ভরি রুপার গহনা চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেলিনাকে সন্দেহ করে স্থানীয়রা একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে ‘চাল পড়া’ খাওয়ানোর মাধ্যমে জোরপূর্বক চুরির দায় স্বীকার করানো হয় এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। নিহতের ছেলে ইফাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সালিশে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তার মাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তি নিতে বাধ্য করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেলিনাকে নখ তুলে ফেলার ভয়ও দেখানো হয়েছিল।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেলিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং তার বিরুদ্ধে আগে কখনো চুরির অভিযোগ শোনা যায়নি। নিহতের পুত্রবধূ সারমিন আক্তার বলেন, “সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ চুরি হওয়া মালামাল ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। অপবাদ সহ্য করতে না পেরে আমার শাশুড়ি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।”
তবে সালিশে উপস্থিত সিরাজুল সিকদার নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একইভাবে গহনার মালিক আলমগীর জানান, সেলিনা চুরির বিষয় স্বীকার করেছিলেন এবং মালামাল ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
