More

    বাউফলে প্রসূতির সিজার করেন ওয়ার্ড বয়: প্রয়োগ করা হয় সরকারি ওষুধ

    অবশ্যই পরুন

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী বন্দরে মাজেদা মেমোরিয়াল ক্লিনিকে ওয়ার্ড বয় দিয়ে সিজার অপারেশন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, সিজার অপারেশনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি ওষুধ। ক্লিনিকটি পরিচালনা করছেন এক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা। বুধবার রাতে নিউ লাইফ কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসুতি মৃত্যুর রেশ না কাটতেই চাঞ্চল্যকর এ খবর প্রকাশ হওয়ায় বর্তমানে এলাকায় তোলপাড় চলছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাজেদা মেমোরিয়াল ক্লিনিক পরিচালনা করছেন কালিশুরী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহীনুর বেগম বেবী ও তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন সিকদার। শাহাবুদ্দিন সিকদার তার মা মাজেদা বেগমের নামে ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠা করেন। শাহাবুদ্দিন সিকদার ও শাহীনুর বেগম দম্পতির ছেলে যুবায়ের হোসেন শাওন কালিশুরী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্টোর কিপার। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও মাঝেমধ্যে জুবায়ের স্টোর কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সুবাদে তিনি সরকারি মূল্যবান ওষুধ নিয়ে ওই ক্লিনিকে সিজার অপারেশনসহ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন।

    মাজেদা ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার থেকে গোপন ক্যামেরায় তোলা ছবিতে দেখা যায়, সিজার অপারেশনের জন্য সরকারি মোড়কের কয়েকটি মূল্যবান ওষুধ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। অপর একটি ছবিতে দেখা যায়, রুহুল আমিন নামের এক ওয়ার্ড বয় সিজার অপারেশন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর পাশেই দাড়িয়ে আছেন শাহীনুর বেগম বেবী। এই রুহুল আমিনের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তিনি বিভিন্ন ক্লিনিকে ওয়ার্ড বয়ের দায়িত্ব পালন করার সময় সিজার অপারেশন রপ্ত করেন। এখন বাউফলের বিভিন্ন ক্লিনিকে যখন সার্জন ছুটিতে থাকেন তখন জরুরী রোগীর অপারেশনের জন্য ডাক পড়ে রুহুল আমিনের।

    বাউফলের বিভিন্ন ক্লিনিকে অন কলে সিজার করেন এমন একজন গাইনি সার্জন ডা. জুবায়ের হোসেন বলেন, রুহুল আমিনকে দিয়ে মাজেদা মেমোরিয়ালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজার অপারেশন করা হয়। বিষয়টি আমি সিভিল সার্জন ও বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    এ প্রসঙ্গে মাজেদা মেমোরিয়াল ক্লিনিকের পরিচালক শাহিনুর বেগম বেবীর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক শাহাবুদ্দিন সিকদার বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি সরকারি চাকুরি করি। আমার স্বামীসহ কয়েকজন অংশীদার ক্লিনিকটি পরিচালনা করছেন। সরকারি ওষুধ ক্লিনিকে ব্যবহার করি না। আর ওয়ার্ড বয়কে দিয়ে সিজার অপারেশন করা হয় না। আমরা অন কলে সার্জন এনে প্রসুতির সিজার করি। আর ডা. জুবায়ের একসময় মাজেদা ক্লিনিকের সার্জন ছিলেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ¦ তৈরি হয়। এখন আমাদের বিরুদ্ধে ডা. জুবায়ের অপপ্রচার করছেন।

    এ প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ওয়ার্ড বয় রুহুল আমিনের বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করেছি। কিন্তু সিজার অপারেশনের কোন প্রমাণ পাইনি। আর সরকারি ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Winbay Casino: Gioco Mobile Veloce per Vincite Rapide

    In movimento, la maggior parte dei giocatori desidera un'emozione istantanea senza l'impegno a lungo termine che comporta il gaming...