More

    দেশে প্রথম বারের মতো কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট, আলো ফুটল দুই প্রাণে

    অবশ্যই পরুন

    প্রথমবারের মতো মৃত কোনো মানুষের দেহ থেকে নেওয়া কিডনি অন্যজনের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা অর্জন করল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের নেতৃত্বে এক মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে নেওয়া দুটি কিডনি দুজনের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে এক মৃতদেহ থেকে আলো ফুটেছে দুই প্রাণে।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউর জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে আজ বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    জানা গেছে, ক্লিনিক্যালি ডেথ বা ব্রেইন ডেথ রোগীদের থেকে সাধারণত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। ১৯৫৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে, এরপর যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে পাশের দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ব্রেইন ডেথ রোগীদের থেকে কিডনি নিয়ে প্রতিস্থাপন করা হলেও বাংলাদেশে আগে কখনো তা করা হয়নি। নতুন এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে অনেক কিডনি রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

    এ বিষয়ে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিএসএমএমইউয়ে ২০ বছর বয়সী সারা নামের এক জেনেটিক ডিজিজে আক্রান্ত রোগীর একটি সার্জারি হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। আমরা যখন বুঝতে পারি সে ব্রেইন ডেথের দিকে যাচ্ছে, তখন তার মাকে আমরা কাউন্সেলিং করি। তার স্কুল শিক্ষক মা ব্রেইন ডেথ সারার দুটি কিডনি ও দুটি কর্নিয়া ট্রান্সপ্লান্টের অনুমতি দেন। আমরা কিডনি দুটি ট্রান্সপ্লান্ট করেছি এবং তার কর্নিয়া দুটি এখনো সংরক্ষণ করেছি।’

    এর আগে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্রেইন ডেথ একজন রোগী থেকে আটজনের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট অন্যান্য ট্রান্সপ্লান্ট থেকে সহজ। একজন ব্রেইন ডেথ রোগীর দুটি কিডনি দুইজনকে, একটি লিভার একজনকে, দুটি ফুসফুস দুইজনকে, হৃদযন্ত্র একজনকে, অন্ত্র একজনকে, অগ্ন্যাশয় একজনকে দান করে মোট আটজনের জীবন বাঁচানো যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমরা ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করি। বিশেষ করে গণমাধ্যমের ভূমিকা এখানে অনেক বেশি। গণমাধ্যম যদি ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের গুরুত্ব প্রচার করে, তাহলে আমাদের কাজ সহজ হবে। জনগণও এতে উপকৃত হবে। আমরা গণমাধ্যমের কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। আমরা প্রতি মাসে এক এক ইনস্টিটিউটে আলাদা করে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট নিয়ে আলোচনা সভা করার আহ্বান করছি। এর ফলে আমরা কেন ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট করব, কাদের কাছে করব, ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের গুরুত্ব সবাইকে বোঝাতে পারব।

    বরিশাল ডট নিউজ/স্ব/খ 

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Be involved in some lighter moments challenges and you can objectives in return for advantages

    If this is a gaming webpages for your https://hrvatska-lutrija-hu.com/ requirements, strike the on the-page banners and get been now....