More

    হীরার মুকুট ফেলে সন্ন্যাসিনী শিশু

    অবশ্যই পরুন

    ভারতের ধনাঢ্য হীরা ব্যবসায়ীর ৮ বছরের মেয়ে দেবাংশী সাংঘভির বিপুল ঐশ্বর্য আর বিলাস-ভূষণের মধ্যেই বেড়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সে এখন সাদা কাপড় পরে খালি পায়ে ভিক্ষার পাত্র হাতে নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে। পুতুল খেলার বয়সেই বাবার ধনরাশি ত্যাগ করে সে সন্ন্যাসব্রত নিয়েছে।

    বিবিসি জানায়, গুজরাটের সুরাত জেলার প্রখ্যাত হীরা ব্যবসায়ী ধনেশ ও অমি সাংঘভি দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে বড় দেবাংশী। মাত্র ৮ বছর বয়সী দেবাংশী গত সপ্তাহে সন্ন্যাসব্রত নিয়েছে। সাংঘভির পরিবার জৈন ধর্মের অনুসারী। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধর্মটির ৪৫ লাখ অনুসারী রয়েছে। ধর্মীয় পণ্ডিত ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জৈন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে সন্ন্যাস নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও শিশুরদের, বিশেষ করে দেবাংশীর মতো এমন ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানের সন্ন্যাসিনী হওয়া বিরল ঘটনা।

    গুজরাটের সুরাটে গত সপ্তাহে বিরাট আড়ম্বরের সঙ্গে দেবাংশীর সন্ন্যাস দীক্ষা সম্পন্ন হয়। জৈন ধর্মের জ্যেষ্ঠ সন্ন্যাসীদের পাশাপাশি হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দেবাংশীর সন্ন্যাসগ্রহণ উপলক্ষে হাতি এবং ঘোড়ার একটি বিশাল শোভাযাত্রা করা হয়। বহুমূল্য অলংকার, দামি কাপড়ে সাজিয়ে দেবাংশীকে অনুষ্ঠানস্থলে আনে তার বাবা-মা। দেবাংশীর মাথায় ছিল হীরাখচিত মুকুট। আচার-অনুষ্ঠান শেষ হলে দেবাংশীকে একেবারে ভিন্নরূপে দেখা যায়। নিরাভরণ দেবাংশী তখন সাদা শাড়ি পরিধান করে জৈন সন্ন্যাসিনীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। বিলাসবহুল বাড়ি ছেড়ে দেবাংশী এখন আশ্রমে থাকছে। বিবিসি জানায়, সুরাটের হীরা ব্যবসায়ী ধনেশ ও অমি সাংঘভি অত্যন্ত ধার্মিক হিসেবে পরিচিত। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এই দম্পতি শিশু অবস্থাতেই দেবাংশীকে সন্ন্যাসী করতে মনস্থির করে। পার্থিব মোহমায়া থেকে দেবাংশীকে দূরে রাখতে তারা নানা পদক্ষেপ নেয়। দেবাংশীকে কখনো টেলিভিশন, সিনেমা, শপিংমল কোথাও নিয়ে যায়নি তারা। শিশুবয়স থেকেই দেবাংশীকে তিনবেলা প্রার্থনা করতে শেখানো হয়। এমনকি দুই বছর বয়স থেকেই তাকে উপবাস করতে শেখানো হয়।

    সুরাটের হীরা ব্যবসায়ী ও বিজেপি নেতা কীর্তি শাহের সঙ্গে দেবাংশীর পরিবারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তিনি জানান, দেবাংশী এখন আর বাড়ি থাকতে পারবে না। সে এখন সাদভি (সন্ন্যাসিনী)। তাকে কৃচ্ছ্র সাধন করতে হবে। দেবাংশীকে এখন সব স্থানে হেঁটে যাতায়াত করতে হবে। কোনো ধরনের যানবাহন সে ব্যবহার করতে পারবে না। মাটিতে একখণ্ড সাদা কাপড়ের ওপর তাকে ঘুমাতে হবে। সন্ধ্যার পর তার খাবার গ্রহণ করা নিষেধ। মাত্র ৮ বছর বয়সী শিশু দেবাংশীর সন্ন্যাস নেয়ার ঘটনায় কীর্তি শাহ নিজের অস্বস্তি বোধের কথা জানান। তার মতে, ১৬ বছর বয়সেও শিশুরা কলেজে কোন বিষয়ে পড়ালেখা করবে তা ঠিকমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সেখানে এতটুকু শিশু কীভাবে সন্ন্যাসের মতো কঠিন জীবন বেছে নেয়ার ক্ষমতা রাখে?

    বিবিসি জানায়, ধনাঢ্য পরিবারের ৮ বছর বয়সী শিশুর সন্ন্যাস গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেবাংশীর মা-বাবার তীব্র সমালোচনা করেছেন। দেবাংশীর পরিবার শিশু অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে তীব্র সমালোচনা চলছে। মুম্বাইয়ে শিশু সুরক্ষা পরামর্শক নিলিমা মেহতা বিবিসিকে জানান, দেবাংশীকে নিদারুণ কঠিন জীবন পার করতে হবে। জৈন সন্ন্যাসিনীর জীবন ভয়ানক কঠিন। এদিকে ভারতের জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের প্রধান প্রিয়নক কানুনগো দেবাংশীর ঘটনাটিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে এ ব্যাপারে সরকারের করণীয় কী তা বলতে অস্বীকার করেন।

     বরিশাল ডট নিউজ/স্ব/খ 

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Be involved in some lighter moments challenges and you can objectives in return for advantages

    If this is a gaming webpages for your https://hrvatska-lutrija-hu.com/ requirements, strike the on the-page banners and get been now....