More

    একাত্তরে বয়স ছিল ৫, তবুও তিনি মুক্তিযোদ্ধা

    অবশ্যই পরুন

    মুক্তিযুদ্ধের সময় মো. এছাহাক মাঝির বয়স ছিল ৫ বছর ২ মাস ১৯ দিন। তিনি ভুয়া জন্মতারিখ ও জাল শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গেজেটভুক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মো. এছাহাক মাঝি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

    তিনি ১৯৬৬ সালের ৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। সেই হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তার বয়স ৫ বছর ২ মাস ১৯ দিন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেতে তিনি নিজের জন্মসাল পরিবর্তন করে ১৯৫৫ সালের ৭ জানুয়ারি দেখান। ফলে জন্মতারিখ জালিয়াতির মাধ্যমে বড় ভাই ইব্রাহিম মাঝির (জন্ম ১৯৬২) থেকেও বয়সে ‘বড়’ হয়ে যান। তার শিক্ষা সনদে উল্লেখ রয়েছে, তিনি ১৯৬৯ সালে এম এম আলীর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেন।

    অথচ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। এই ভুয়া জন্মতারিখ ও একটি জাল শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২০২২ সালের ৩ মার্চ তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদন্তে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর, সিল ও মনোগ্রাম জাল করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

    নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০০৮ সালে ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্ত হন মো. এছাহাক মাঝি। সে সময় জন্মসাল ১৯৬৬ সাল থাকলেও ২০১৫ সালে এসে নাম- মো. ইসহাক ও জন্মসাল ১৯৫৫ সাল চেয়ে এনআইডির তথ্য পরিবর্তন করেন। বয়স বাড়ানোর পর ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় গেজেটভুক্ত হয়েছেন।

    মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বয়স ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ বছর ৬ মাস হয়নি তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবে না।’ কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় এছাহাক মাঝির বয়স ছিল ৫ বছর ২ মাস ১৯ দিন। অভিযোগ রয়েছে, এছাহাক মাঝি নিজেকে ভূমিহীন দাবি করে প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ‘শহিদুল ইসলাম’ নামে এবং স্ত্রী মোসা. জাহানারা বেগমের সঙ্গে যৌথভাবে ৭১০ আম/২০০৬-০৭ নম্বর বন্দোবস্ত মামলায় আলীর বন্দর মৌজার খাস খতিয়ানভুক্ত ৪০৯৪ নম্বর দাগে প্রায় ৯০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেন তিনি। অথচ ২০০০ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি দুই একর ৬৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যা তার ভূমিহীনতার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।

    তার মা মরিয়ম বেগমের নামেও এক একর জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে পূর্বেই তার নামে ১৫.৫০ শতাংশ জমি ছিল। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জালাল গাজী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকায় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) গত ২১ জুলাই এছাহাক মাঝিকে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করে। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি।

    একইসঙ্গে ভূমি জালিয়াতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগের আলোকে তালতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্তে একাধিক অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ মেলে। কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আজিজুল হক শিকদার বলেন, জন্মতারিখ পরিবর্তন করায় এছাহাক মাঝি তার আপন বড় ভাইয়ের থেকেও ৭ বছরের বড়।

    এর বেশি কিছু বলতে চাই না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. এছাহাক মাঝি বলেন, আমি শিক্ষিত নই, এ জন্য ভোটার আইডি কার্ডে জন্মতারিখ ভুল হয়েছে। সেটা সংশোধন করতে নির্বাচন কমিশনে অষ্টম শ্রেণি পাসের ভুয়া সনদ কেন দিলেন এমন পশ্নে তিনি জানান, জন্মতারিখ পরিবর্তনের আবেদন আমি করেছি। কিন্তু শিক্ষা সনদ নির্বাচন অফিসে কে জমা দিয়েছে আমি জানি না।

    বড় ভাই ইব্রাহিম মাঝি আপনার থেকে সাত বছরের ছোট হলো কী করে, প্রশ্ন করতেই তিনি লাইন কেটে দেন। তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা উম্মে সালমা বলেন, এছাহাক মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তথ্য জালিয়াতি করায় তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হবে কিনা

    এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে আমার কিছুই করার নেই।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Betarctica Instant Banking Withdrawals: Providers List

    ContentsSupported Instant Banking Providers at BetarcticaStep-by-Step Guide to Requesting a WithdrawalProcessing Times and Financial LimitsEssential KYC Verification for First-Time...