ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়া বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আজ ১৫ জানুয়ারি শুনানি শেষে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঝালকাঠি-১: ভোটযুদ্ধে ফিরলেন সৈকত ও ইরান
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতা গোলাম আজম সৈকত। প্রাথমিক বাছাইয়ে তার দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিলের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে নির্বাচন কমিশন তার আবেদন মঞ্জুর করে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে।
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে গোলাম আজম সৈকত বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গে আছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।”
একই আসনে আরও বৈধতা পেয়েছেন:
ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী (স্বতন্ত্র/বিএনপি)
ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (চেয়ারম্যান, লেবার পার্টি)
শাহাদাৎ হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ)
ঝালকাঠি-২: বৈধতা পেলেন সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম
ঝালকাঠি-২ আসনেও প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ ইসিতে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম তার প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও স্বাক্ষরের ত্রুটি সংশোধন সাপেক্ষে কমিশন তার মনোনয়নকে বৈধ বলে রায় দেয়।
উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঝালকাঠি-১ আসনে গোলাম আজম সৈকত বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত কারণে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। হেভিওয়েট এই প্রার্থীদের ফেরার খবরে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও ঝালকাঠি সদর এলাকার নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
