More

    সত্যের পথে সাংবাদিকতা: পক্ষপাত নয়, জনগণ ও অসহায়দের কণ্ঠস্বর

    অবশ্যই পরুন

    মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ : সাংবাদিকতা কোনো দল, গোষ্ঠী কিংবা ক্ষমতাকেন্দ্রের মুখপাত্র হওয়ার নাম নয়। সাংবাদিকতার মূল দর্শন হলো সত্যের অনুসন্ধান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সমাজের প্রান্তিক, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা। “সত্যের পথে সাংবাদিকতা, পক্ষপাত নয়—জনগণ ও অসহায়দের কণ্ঠস্বরই সাংবাদিকের লক্ষ্য”—এই নীতিবাক্যই প্রকৃত সাংবাদিকতার মেরুদণ্ড।

    আজকের সমাজে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সত্যের সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু সেই সংবাদ কতটা নির্ভরযোগ্য, কতটা পক্ষপাতমুক্ত—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সংবাদ পরিবেশন হয়ে উঠছে ক্ষমতাবানদের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার, যেখানে দুর্বল মানুষের কান্না চাপা পড়ে যায় শিরোনামের ভিড়ে। অথচ সাংবাদিকতা তখনই তার মর্যাদা হারায়, যখন তা সত্যকে আড়াল করে এবং অন্যায়কে বৈধতা দেয়।

    সাংবাদিকতার প্রধান শক্তি জনগণ। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকতার দায়িত্ব হলো জনগণের পক্ষে কথা বলা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। বিশেষ করে সমাজের অসহায়, দরিদ্র, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা রাষ্ট্রযন্ত্র অনেক সময় শুনতে চায় না। তাদের বেদনা, বঞ্চনা ও অধিকারহরণের গল্প যখন কোথাও প্রকাশ পায় না, তখন সাংবাদিকের কলমই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র ভরসা। এই কারণেই সাংবাদিকতার মানবিক দায়িত্ব সবচেয়ে বড়।

    পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা মানে কেবল দু’পক্ষের কথা তুলে ধরা নয়; বরং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। নিরপেক্ষতার নামে যদি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হয়, তবে তা সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থী। সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কোনো সমঝোতা নেই। যেখানে অন্যায়, সেখানে সাংবাদিককে স্পষ্টভাবে বলতে হবে—এটি অন্যায়। কারণ নীরবতা অনেক সময় অন্যায়কে শক্তিশালী করে তোলে।

    একজন সাংবাদিকের কলম কেবল খবর লেখার যন্ত্র নয়; এটি একটি বিবেকবান অস্ত্র। সেই কলম দিয়ে সমাজের অসংগতি, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচন করতে হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমেই বহু অন্যায়ের পর্দাফাঁস হয়েছে, পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। পানি, খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও ন্যায়বিচার—এই মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে সাংবাদিকতার ভূমিকা অপরিসীম।

    আজ যখন ভুয়া খবর, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা সমাজকে বিভ্রান্ত করছে, তখন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রয়োজন আরও বেশি। একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব শুধু খবর প্রকাশ করা নয়, বরং তথ্য যাচাই করা, প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা এবং জনগণকে সচেতন করা। কারণ সচেতন জনগণই গণতন্ত্রের ভিত্তি, আর সচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    জনগণের আস্থা সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই আস্থা একবার হারালে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই সাংবাদিককে হতে হবে সৎ, সাহসী ও নৈতিকতাবান। ব্যক্তিগত স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা আর্থিক লোভ সাংবাদিকতার পথকে কলুষিত করতে পারে। এসব প্রলোভন উপেক্ষা করে সত্যের পথে অবিচল থাকাই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয়।

    সবশেষে বলা যায়, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং একটি মানবিক অঙ্গীকার। “সত্যের পথে সাংবাদিকতা, পক্ষপাত নয়—জনগণ ও অসহায়দের কণ্ঠস্বরই সাংবাদিকের লক্ষ্য”—এই আদর্শ ধারণ করেই সাংবাদিকতাকে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই সমাজ পাবে ন্যায়, রাষ্ট্র পাবে শক্ত ভিত, আর জনগণ পাবে তাদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর।

    সাধারণ সম্পাদক
    মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাব
    পিরোজপুর।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    আজ শেষ হচ্ছে আপিল শুনানি, কাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া বাতিল-গ্রহণ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির অষ্টম দিন ছিল গতকাল শনিবার। আজ...