অতিথি লেখক : নতুন বছরের প্রথম সকাল আলো নিয়ে আসে, কিন্তু সেই আলোর ভেতরও আটকে থাকে পুরোনো দিনের ভার। রাস্তার কোণে জমে থাকা বর্জ্য, বাতাসে ঝুলে থাকা ধোঁয়ার স্তর, নদীর জলে মিশে যাওয়া অবহেলা—সব মিলিয়ে বছর বদলালেও দূষণের ছাপ থেকে যায়। তবু এই নতুন সূচনা বারবার মনে করিয়ে দেয়, চাইলে বদলানো যায়; চাইলে এই দেশ আবার পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ মানে নদীর প্রবাহ, সবুজের বিস্তার, আকাশজুড়ে পাখির উড়াল। কিন্তু সেই নদীগুলো আজ ক্লান্ত, সবুজ আজ ধূসরতায় ঢাকা, আর বাতাসে জমে উঠছে নিঃশব্দ রোগ। শহরগুলো জেগে ওঠে শব্দে আর ধোঁয়ায়, রাত নামলেও দূষণ ঘুমায় না। গ্রামের পথেও পৌঁছে গেছে প্লাস্টিকের অচেনা ছায়া, মাঠ আর খাল হারাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক শ্বাস। নতুন বছর তাই কেবল সময়ের পরিবর্তন নয়, পরিবেশের কাছে নতুন করে ক্ষমা চাওয়ার সময়।
পরিচ্ছন্নতা এখানে সৌন্দর্যের প্রশ্ন নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই। একটি পরিষ্কার রাস্তা মানে নিরাপদ চলাচল, একটি দূষণমুক্ত নদী মানে জীবনের ধারাবাহিকতা, একটি নির্মল বাতাস মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা। শহরের প্রতিটি ডাস্টবিন, প্রতিটি গাছ, প্রতিটি খাল যেন নতুন বছরের সঙ্গে নতুন দায়িত্ব পায়—বেঁচে থাকার।
দূষণ থামলে ফিরে আসে প্রকৃতির ভাষা। আকাশ আবার নীল হতে চায়, নদী চায় স্বচ্ছ হতে, মাটি চায় নিঃশ্বাস নিতে। নতুন বছরের শুরু তাই হোক এমন এক অঙ্গীকারে, যেখানে রাস্তায় কমবে আবর্জনা, আকাশে কমবে ধোঁয়া, আর মানুষের মনে জন্ম নেবে সচেতনতার আলো।
এই নতুন বছর আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে একটাই প্রশ্ন রাখে—আমরা কি আগের মতোই চলব, নাকি পরিচ্ছন্নতার পথ বেছে নেব? উত্তর লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের কাজে, ছোট সিদ্ধান্তে, নীরব দায়িত্বে। দূষণ নয়, পরিচ্ছন্নতায় শুরু হোক নতুন বছর—এই হোক বাংলাদেশের নতুন দিনের প্রথম লাইন।
শিক্ষার্থী- আব্দুল্লাহ জিম
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়



