অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রথম জাল জালিয়াতি ও চর দখলের নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরেছেন, এই রকমের চর দখলের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন দয়া করে ’২৪ ভুলে যাবেন না। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচনী অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তিনি ওই আসনের ১১ দলীয় ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোট সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বিএনপির যে নেতাকর্মীরা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
তিনি বলেন, ভোটের দিন বাবুগঞ্জ ও মুলাদিতে প্রকাশ্যে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি ও জালভোটের একাধিক ঘটনা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। এসময় সেনাবাহিনী, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশের পেশাদার ভূমিকার প্রশংসা করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তবে সামগ্রিকভাবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের। প্রশাসনের ভেতর আন্তরিক মানুষ ছিলেন- এমন দাবি করে ফুয়াদ বলেন, বাবুগঞ্জ ও মুলাদিতে ইউএনওসহ কিছু কর্মকর্তাকে আমরা পেয়েছি যারা ভালো নির্বাচন চেয়েছেন।
কিন্তু পুরো ব্যবস্থাপনায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। ভোটের দিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাবুগঞ্জে কেন্দ্র দখল ঠেকাতে গিয়ে মুলাদিতে পর্যাপ্ত নজর দেওয়া সম্ভব হয়নি। মুলাদি একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় সেখানে সেনাবাহিনী ও র্যাবের দ্রুত উপস্থিতিও কঠিন ছিল। তিনি বলেন, মুলাদীতে অনেক এজেন্ট ভয় পেয়ে ভোটের দিন কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান এবং দুই দিন পর ভিডিও পাঠিয়ে দেখান, কীভাবে ব্যালট স্টাফিং হয়েছে। আমাদের কাছে প্রতি মিনিটে খবর আসছিল কোথাও ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কোথাও পেছনের গেট দিয়ে ঢুকে পড়া, কোথাও অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ। কোথাও আধা ঘণ্টা ধরে সিল মারা হয়েছে।
আধা ঘণ্টায় একটি কেন্দ্রে কী পরিমাণ ভোট জাল হতে পারে, সেটা তো সাধারণ বোধেই বোঝা যায়। গণভোটের সংখ্যার তুলনায় সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট বেশি পাওয়া গেছে উল্লেখ করে ফুয়াদ বলেন, সংখ্যাগত তথ্য ব্যালট স্টাফিংয়ের ইঙ্গিত দেয়। অনেক কেন্দ্রে গোপনীয়তা রক্ষা হয়নি। কোথাও পর্দা ছিল না। কোথাও প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এখনো অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছাড়া।
ঘরে ঘরে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভয়মুক্ত রাজনীতি প্রতিষ্ঠা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন বলেও দাবি করেন ফুয়াদ। তিনি বলেন, ভোট আর শতাংশের পার্সেন্টেজ যাই হোক ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে দেওয়ার মত শক্তি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের আছে। আজকে যারা গুন্ডামি-মাস্তানি করছে এরাই গত ১৬ বছর ধানক্ষেত, পাট খেতে ছিল। এরা নিজেরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরেও ১৬ বছর পর আবার জালেম হয়ে উঠছে, একই জুলুম করছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, ডিসেম্বর মাস থেকে আমরা দেখছি প্রশাসন প্রচ্ছন্নভাবে বিএনপির প্রতি বায়েস্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সবার জন্য একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল তৈরি করবে। যেন সবাই ন্যায্যভাবে সমতার সাথে গণসংযোগ এবং ভয়-ভীতিহীন একটা ভোটের দিন পায়। সেটা করতে প্রশাসনের একটা বড় অংশ ব্যর্থ হয়েছে। এসময় প্রশাসনকে সাবধান করে দিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘কে, কোথায় কোন রোল প্লে করেছেন হিস্যা নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ৫৫ বছর পরে এসেও রামদা, চাপাতির পছন্দের মানুষের কাছে ভোট চাইতে না পারাটা লজ্জার। জাতীয় চরিত্র সমাধান করার আগ পর্যন্ত এগুলো পরিবর্তন করা যাবে না। তিনি তারেক রহমানকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে একত্রিশ দফার ওপর ভিত্তি করে আপনি বাংলাদেশ বদলাবেন বলেছেন সেটা কাগজ-কলমে না- এ্যাকশনে দেখতে চাই।
দলের গুন্ডা, মাস্তান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদেরকে আপনি কিভাবে ডিল করবেন তার ওপর নির্ভর করছে ‘আপনি সফল হবেন, নাকি হবেন না’। দলের ক্রিমিনাল গ্যাংদের যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন নিশ্চিত থাকেন আপনার জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরিশাল-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের হয়ে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
তিনি ৬১ হাজার ১১২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ওই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
