ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট গণনাকালীন ভোলা চরসামাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় পুলিশ ও ‘গরুর গাড়ী’ প্রতীকের এজেন্টের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন জানা যায়, ‘গরুর গাড়ী’ প্রতীকের নির্বাচনি এজেন্ট ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গণি ব্যাপারির ছেলে আ. মান্নান ভোট গণনার সময় কেন্দ্রের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়ান। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে স্কুল কক্ষে নিয়ে যান। এ সময় কেন্দ্রের বাইরে উপস্থিত ‘গরুর গাড়ী’ প্রতীকের সমর্থকেরা পুলিশের ভাড়ায় চালিত একটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং কেন্দ্রের ভেতরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের জেরে স্কুল ভবনের বেশ কয়েকটি কক্ষের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নৈশপ্রহরী দীপংকর তাকে ফোনে বিষয়টি জানান। পরে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের এজেন্টকে বিনা কারণে হেনস্তা করা হয়েছে। অন্যদিকে ভোলা মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নির্বাচনকালীন পুলিশের ভাড়ায় চালিত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা নম্বর ২২/২৬ দায়ের করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
