More

    অনলাইন নম্বর থেকে ভুয়া ফোন: কাঁঠালিয়ায় অর্ধশতাধিক প্রধান শিক্ষক প্রতারণার শিকার

    অবশ্যই পরুন

    ​ঝালকাঠি প্রতিনিধি,মো:মেহেদী হাসান: ​ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিচিত্র প্রতারণার শিকার হয়েছেন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। ওয়াইফাই সেবা ও প্রশিক্ষণ চুক্তির কথা বলে ভুয়া ফোন কলের মাধ্যমে তাঁদের উপজেলা সদরে ডেকে এনে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে একটি অজ্ঞাত চক্র।

    ​উপজেলার ১৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন প্রধান শিক্ষককে একটি অনলাইন নম্বর (০৯৬৫৮২৯৬২২০) থেকে কল করা হয়। ফোনে জানানো হয়, আজ সোমবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে ওয়াইফাই সেবা বিষয়ক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চুক্তি অনুষ্ঠিত হবে। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত রেখে উপজেলা সদরে উপস্থিত হন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান নির্ধারিত সভাকক্ষটি তালাবদ্ধ।

    ​কচুয়া বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি অনলাইন নম্বর থেকে কল দিয়ে আমাদের জানানো হয় যে ওয়াইফাই বিষয়ক একটি চুক্তি হবে। সেই ভিত্তিতেই আমরা প্রায় ৭০ জন শিক্ষক আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পর জানতে পারি বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। এতে আমরা একদিকে যেমন প্রতারণার শিকার হয়েছি, অন্যদিকে বিভ্রান্তিতে পড়েছি।”



    ​ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম জামান বলেন, “এমন কোনো প্রশিক্ষণ বা সভার ব্যাপারে বিভাগীয় কোনো চিঠিপত্র আমরা পাইনি। একটি প্রতারক চক্র শিক্ষকদের ফোন দিয়ে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। আমি বিষয়টি জানার পরপরই শিক্ষকদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
    ​উপজেলা আইসিটি অফিসার অতনু কিশোর দাশ মুন জানান, আজকের এই ঘটনার সাথে দপ্তরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে আগামী বুধবার (২৮ জানুয়ারি) উপজেলা অডিটোরিয়ামে ওয়াইফাই চুক্তিপত্র বিষয়ক একটি নির্ধারিত অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

    ​কাঁঠালিয়া উপজেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ বাদল হাওলাদার বলেন, “প্রতারক চক্রের এমন হঠকারী কর্মকাণ্ডে শিক্ষকদের যাতায়াত ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষকরা যেন এমন কোনো সোর্স থেকে আসা তথ্যে বিভ্রান্ত না হন, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।”

    ​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যে নম্বর থেকে কল এসেছে সেটির উৎস সন্ধানে কাজ করা হবে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর হাতে পেয়ে খুশি ৪৪০ জন শিক্ষার্থী

    বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি:  বরগুনার বেতাগীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ৪৪০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর...