ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যদিও এই জোটে যাওয়া নিয়ে এনসিপির বিরুদ্ধে সমালোচনা ছিল। তাতে নারী নেত্রীসহ বেশ কয়েকজন দল ছাড়েন। এরপরও ঐক্য অটুট রেখে নির্বাচনে ৭৭ আসন পায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সেই ধারাবাহিকতায় তাদের নির্বাচনী ঐক্য এখন রাজনৈতিক ঐক্যে রূপ নিয়েছে।
নতুন এই রাজনৈতিক জোট নিয়ে প্রশ্ন ছিল এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কাছে। জানালেন, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার নির্বাচনী ঐক্য এখনো পর্যন্ত চলমান আছে।
জামায়াত বলছে, ১১ দলীয় জোটের মধ্যে ৪টি দলের প্রতিনিধিত্ব আছে সংসদে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভিন্ন দাবিতে একসাথে মাঠে থাকবেন তারা।
জামায়াতের মুখপাত্র ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বললেন, সাধারণত অতীতে যেটা হয়েছে, জোট থাকলে একজন আহ্বায়ক থাকেন, অন্যরা সদস্য বা যুগ্ম আহ্বায়ক থাকেন। আমরা ঠিক এভাবে করিনি। আমরা এটাকে নির্বাচনী ঐক্য বলেছি। সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা আসন সমঝোতা করেছি। আমরা এখন সংসদে ভূমিকা রাখবো।
শুন্য থাকা সিটি-পৌর-উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কি জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঐক্যের ভিত্তিতে অংশ নেবে? এমন প্রশ্নে নেতারা বলছেন, এ নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আমরা জামায়াতের পক্ষ থেকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দিক-নির্দেশনা দিয়েছি। প্রথম ধাপে তো হবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন, সেখানে দলের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোতেও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আখতার হোসেন বললেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য একটি কমিটিও আমরা তৈরি করেছি। খুব শিগগিরই সেই কমিটি কাজ শুরু করবে। আমরা আমাদের মতো করে কার্যক্রম শুরু করেছি, যেকোনো সময় বৃহত্তর স্বার্থে এবং দলগত সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে জামায়াত বা অন্য যেকোনো দলের সাথে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো নিয়ে আমাদের বোঝাপড়া হলেও হতে পারে।
১১ দলীয় জোটের শীর্ষ দুই নেতা বলছেন, বিএনপি সরকারের ভালো কাজকে স্বাগত জানাবে তারা। তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে কোন ছাড় দেবে না।
