More

    পাথরঘাটা: জ্বালানি সংকটে মাছ ধরা বন্ধ জেলেদের

    অবশ্যই পরুন

    জ্বালানি তেলের সংকটে বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটায় মাছ ধরার শত শত ট্রলার বন্ধ হয়ে গেছে। গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যেতে পারছেন না কয়েক হাজার জেলে। ফলে ঈদুল ফিতরের আগে বড় ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে এসব জেলে পরিবার, ট্রলারমালিক ও মাছের আড়তদারেরা। গতকাল বুধবার সকালে পাথরঘাটার বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর ভাড়ানি খালে সমুদ্রগামী অর্ধশতাধিক ট্রলার খালে ও ঘাটে নোঙর করে থাকতে দেখা যায়।

    এসব ট্রলার ডিজেলে চলে। কিন্তু স্থানীয় খুচরা দোকানে জ্বালানি তেল কিনতে পারছেন না। ডিজেল মজুত না থাকার দাবি দোকানিদের। আশপাশে কোনো ফিলিং স্টেশনও নেই। ফলে সব ধরনের বাজার-সদাই করে প্রস্তুতি নিলেও জ্বালানির অভাবে জেলেরা মাছ ধরতে সাগরে যাওয়ার জন্য ট্রলার ছাড়তে পারছেন না। স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

    এই অবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পাথরঘাটায়ও জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। জেলেদের অভিযোগ, দেশে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রির আশায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। জেলেপল্লিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর ঈদের আগমুহূর্তে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করে সেই আয়ের টাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদ্‌যাপন করেন উপকূলের জেলেরা। কিন্তু এ বছর জেলেরা সমুদ্রে যেতে না পারায় তাঁদের পরিবার-স্বজনদের ঈদের কেনাকাটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের জেলে আব্দুর রহমান বলেন, ‘দোকানগুলোয় তেল মজুত আছে বলেই মনে হয়, কিন্তু আমরা কিনতে গেলে বলা হয়, তেল নেই। ফলে জ্বালানি না পাওয়ায় সমুদ্রে যেতে পারছি না। ভেবেছিলাম, ঈদের আগে সাগরে গিয়ে মাছ ধরে আয় করব। সেই টাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে ঈদ করব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এ বছর আর সেই আশা পূরণ হবে না।’

    বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, পাথরঘাটার বিভিন্ন দোকানে পর্যাপ্ত তেল থাকার পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামে বিক্রির আশায় গোপনে মজুত করে রেখেছেন। এর ফলে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ঘাটে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আরও বলেন, অনেক ট্রলার এরই মধ্যে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ার জন্য বাজার-সদাইসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঘাটে অপেক্ষা করছে।

    কিন্তু জ্বালানি তেল না পাওয়ায় জেলেরা সাগরে যেতে পারছে না। এতে জেলে, আড়তদার ও ট্রলারমালিকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাছলিমা আক্তার বলেন, যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Class go out reminders let you know immediately after an appartment age continuing enjoy

    It is not a conceptual idea; they shows just how choice-while making really works according to the combination of...