More

    অনৈতিক ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় কলাপাড়ায় বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

    অবশ্যই পরুন

    কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, অনৈতিক ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় কলাপাড়া পৌরসভার খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ রোববার (১৫ মার্চ) বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন।

    রোববার থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের অশ্লীল, অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও উহার ছবি ছড়িয়ে পড়ায় সমাজের প্রচলিত শালীনতা, নৈতিকতা এবং রুচিবোধ কে তীব্রভাবে আঘাত করে। ফলে ছাত্র শিক্ষক সমাজে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

    তার এ কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষক সমাজকে সামাজিকভাবে ব্যাপক হেয় প্রতিপন্ন করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের একটি ‘অনৈতিক ভিডিও’ ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয় ।

    গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রধান শিক্ষকের এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ স্থানীয় অভিভাবক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রধান শিক্ষককে নিয়ে এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষ তার পদত্যাগ দাবি করে আসছিল । অবশ্য এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক প্রকাশ্যে নিজেকে নির্দোশ দাবি করেছেন।

    ঘটনাটি এআই দিয়ে বানানো এবং ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্বাস আলীকে তদন্তদলের প্রধান করে দায়িত্ব দেন। এ বছরের ৪ জানুয়ারি আব্বাস আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

    এ প্রতিবেদনে তিনি বলেন, প্রবিধানমালা, ২০২৪ এর ৫৭৩ প্রবিধান অনুসারে সকল ধরণের আয় অবশ্যই তফসিলি ব্যাংক হিসাবে জমা করার বিধান থাকিলেও প্রধান শিক্ষক কোনো আয় ব্যাংকে জমা প্রদান করেনি। এ ছাড়া প্রবিধানমালা, ২০২৪ এর ৫০ (৩) প্রবিধান অনুসারে সকল ব্যয় অ্যাকাউন্টপেয়ি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করার বিধান থাকলেও প্রধান শিক্ষক তা করেননি। খরচের ভাউচারসমূহ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সভাপতির সই না নিয়ে প্রধান শিক্ষক একাই অনুমোদন করেছেন।

    এতে বিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিজের অনৈতিক ভিডিও সম্পর্কে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেছেন, তাকে হেয় করার জন্য তার শত্রুরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই পর্ণো ভিডিও যে বা যারা ছড়িয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    একই সাথে তিনি এ ঘটনার জন্য আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাউসার হামিদ জানান, প্রধান শিক্ষককে জড়িয়ে ভিডিওটি দেখেছেন। ইতিমধ্যে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়কে দুই বার ফোন করে এ ঘটনা জানিয়েছেন।

    এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের এ ঘটনার বিষয়টি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডকে লিখিতভাবেও জানানো হয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে এ ঘটনার পর তিনি নিজ যোগ্যতা হারিয়েছেন। সবশেষে আজকে রোববার তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এ খবর টি এখন কলাপাড়ার সর্বত্র আলোচনার বিষয়ে পরিনত হয়েছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বাবুগঞ্জে কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, অভিযুক্ত রিফাত

    বরিশালের বাবুগঞ্জে রাইসা (১৪) নামে এক কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রিফাত নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। খারাপ প্রস্তাবে...