ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই বাজারে একটু একটু করে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছিল। ঈদের পরও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে খোলা পাম তেলের দামও। এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে কয়েক ধরনের সবজির দামও কিছুটা বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মিলগেটে (পরিশোধন কারখানা) খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। আবার জ্বালানি তেলের ‘সংকটের’ কারণে পরিবহন ভাড়া কিছুটা বেড়েছে। এসবের প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারের তেলের দামে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, তেজকুনীপাড়া বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বাজারে খোলা সয়াবিন সাধারণত কেজি ও লিটার—দুভাবেই বিক্রি হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, বাজারভেদে গতকাল খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহেই খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় কেনা গেছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা মনিরুজ্জামান বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। ঈদের আগের সপ্তাহে এ দাম লিটারে আরও প্রায় ১০ টাকা কম ছিল। খোলা পাম তেলের দামও এক সপ্তাহে লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানান তিনি।+
গতকাল বাজারে খোলা পাম তেল বিক্রি হয় ১৮৪-১৮৫ টাকায়। গত সপ্তাহে এ দাম ছিল ১৭৫ টাকার আশপাশে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে ভোজ্যতেল পরিশোধন কোম্পানিগুলো খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম সমন্বয় করেছিল। তাতে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৬ ও পাম তেলের দাম ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এখন সেই ঘোষিত দামের চেয়েও ২০-২৫ টাকা বেশি দামে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসের ব্যবধানে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ৬ শতাংশ বেড়েছে। আর গত বছরের তুলনায় এখন খোলা সয়াবিনের দাম ১৮ শতাংশ এবং খোলা পাম তেলের দাম ১১ শতাংশ বেশি। দেশের ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে।
এ অবস্থায় গত ২৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তেলের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে সরকার থেকে অনুমতি না পাওয়ায় বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়াতে পারেনি কোম্পানিগুলো। যদিও ডিলার পর্যায়ে কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়েছে। তাতে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাকে আগের চেয়ে বাড়তি দামেই তেল কিনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সংকট দেখিয়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়েও বেশি দাম নিচ্ছেন ক্রেতারা।
প্রায় দেড় মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে। ক্রেতারা দোকানে গিয়ে চাহিদামতো তেল কিনতে পারছেন না। দেখা যায়, ক্রেতার প্রয়োজন দুই লিটার; কিন্তু দোকানে আছে পাঁচ লিটারের বোতল। এ অবস্থায় সীমিত ও নিম্ন আয়ের অনেকে খোলা সয়াবিন তেল কেনা বাড়িয়েছেন। কিন্তু খোলা তেলের দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
রাজধানীর তেজকুনীপাড়ার বাসিন্দা সেলিম মিয়া একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন। সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমার বাসায় সাধারণত বোতলের সয়াবিন তেল খাওয়া হয়। কিন্তু দোকানে গেলে পাঁচ লিটারের নিচের বোতল তেমন পাওয়া যায় না। এ কারণে খোলা তেল কেনা শুরু করেছি। এখন খোলা তেলের দামও টানা বাড়ছে।’
