More

    কলাপাড়ার জেলেদের ভিজিএফর চাল বিতরণে চলছে হরিলুট : ৮০ কেজিতে দেয়া হচ্ছে ৪৮-৫৮ কেজি

    অবশ্যই পরুন

    কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধুলাসার ইউনিয়নে জেলেদের বিশেষ ভিজিএফ এর চাল বিতরণে চলছে হরিলুট। সরকারের নিয়মানুসারে প্রত্যেক কার্ডধারী জেলে পরিবারকে ৮০ কেজি করে,দুই মাসের চাল বরাদ্দ দেয়া রয়েছে।

    কিন্তু দরিদ্র জেলেদের কার্ড আটকে রেখে স্লিপের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ কেজি করে চাল নিতে বাধ্য করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলেকে ৩০-২০ কেজি করে চাল কম দেয়া হয়েছে। এরপরও ৩০ ও ৫০ কেজির প্রত্যেক বস্তায় ওজনে আরও ২-৩ কেজি করে কম দেয়া হয়েছে। প্রকৃত অর্থে দরিদ্র জেলেদের ভাগ্যে জুটেছে ৪৮-৫৮ কেজি করে চাল। মঙ্গলবার বিতরনকালে সরেজমিনে গিয়ে এমন অরাজক লুটপাটের দৃশ্য দেখা গেছে।

    দরিদ্র সমুদ্রগামী জেলেদের জিম্মি করে এসব করা হয়েছে। ভয়ে বঞ্চিত জেলেরা নাম পর্যন্ত বলতে সাহস পায় না। এছাড়া চাল গোডাউন থেকে নেয়ার পরিবহন খরচ বাবদ নগদ এক শ’ করে টাকা জনপ্রতি হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বার ও সরকারের নিয়োজিত তদারকি অফিসারের যোগসাজশে দরিদ্র জেলেদের সরকারের দেয়া চাল এভাবে লুটে নেয়া হয়েছে।

    জাটকা আহরণে বিরত থাকার কারণে বেকার জেলে জনগোষ্ঠীকে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসে কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে মোট ১৩ হাজার জেলেদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল সরকার বরাবরের মতো বরাদ্দ দেয়। প্রথম দুই মাসের জন্য ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম কলাপাড়ায় শুরু হয়েছে।

    কিন্তু মঙ্গলবারে ধুলাসার ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত ১৪৫০ জন জেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। বঞ্চিত, দরিদ্র এসব জেলেরা হতাশ হয়ে বিবর্ণ চেহারা নিয়ে ৪৮ থেকে ৫৮ কেজি চাল নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিতরণ করা প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে কম দিয়ে ২২-৩২ কেজি করে চাল হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এভাবে ১৪৫০ জন জেলের বরাদ্দ চাল থেকে অন্তত ৩৬ মেট্রিক টন চাল লোপাট করা হয়েছে।

    এছাড়া পরিবহনের খরচের নামে নগদ এক শ’ করে টাকাও রেখে দেওয়া হয়েছে। ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদে বসে এই চাল বিতরণ করা হয়েছে। কাউয়ারচর গ্রামের জুয়েল হাওলাদার দেখালেন, ৩০ কেজির দুইটা বস্তা দেয়া হয়েছে। তাও বস্তায় ওজনে কমপক্ষে দেড় কেজি করে কম।

    রেজাউল দেখালেন তাকে ৫০ কেজির একটা বস্তা দেয়া হয়েছে। ওজনে অন্তত সেখান থেকেও দুই কেজি কম রয়েছে। একই অভিযোগ মতি মোল্লা, চান মিয়া মল্লিক, দুলাল বয়াতি, জুয়েল ও দুলাল গাজীর। অসংখ্য মানুষ এনিয়ে ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেন। তারা হতাশ হয়ে বলেন, কইলে কী অইবে। কেউ অ্যাগো বিচার করে না। গরিব-ক্ষয়রাতির চাউল চুরি করছে। লজ্জাও নাই।’

    এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বহুবার মোবাইল করা হয়। কিন্তু তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের কাছ থেকে শুনেছেন।

    অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এখনো কিছু চাল বিতরণ করা হয়নি বলে তিনি জানালেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, তিনি বিষয়টি জেনেছেন। চেয়ারম্যানকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন তিনি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Zwischen Einfachheit und Verzicht: Wettanbieter ohne Oasis im Alltagstest

    Wettanbieter ohne Oasis: Ein Blick auf einfache Wettplattformen im Praxistest Warum entscheiden sich Spieler für Wettanbieter ohne Oasis? Es gibt inzwischen...