কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী অফিসের তালা ভেঙে দখলে নেয়ার পর গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন মহিলা দল নেত্রীর স্বামী মিলন বেপারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিসহ এ বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী ব্যাপারী ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
আর বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয় বিএনপি এটিকে কোনভাবেই সমর্থন করে না। এটা মহিলা দল নেত্রীর ব্যক্তিগত দায় দায়িত্ব। তবে উপজেলা মহিলা দল সভানেত্রী সালমা বেগম লিলি ও তার স্বামী মিলন ব্যাপারীর দাবি, এটা তাদের ভূসম্পত্তি। জোরপূর্বক ফলজ গাছ কেটে আ’লীগের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করেন প্রয়াত পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুবুর রহমান।
সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে কয়েক দফা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় দলীয় কার্যালয়ের এসি, সিলিং ফ্যান সহ মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে কার্যালয়ের ভেতরে নিজেদের রান্নাঘরের লাকড়ি সহ মালামাল রেখে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালমা বেগম লিলির স্বামী মিলন বেপারী।
ঘটনার পরপরই এ সংক্রমিত ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের কাছ থেকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে এবং সম্মানজনক সালামী দিয়ে ৯৯ বছরের জন্য ওই দুই শতক খাস জমি দলীয় কার্যালয়ের জন্য আ’লীগ সম্পাদকের নামে বন্দোবস্ত নেয়া হয়। এরপর পৌরসভা থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন নিয়ে দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
বর্তমানে ক্ষমতার দাপটে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে দখল করে নিয়েছেন মহিলা দল নেত্রী। এ বিষয়ে মহিলা দল নেত্রী সালমা বেগম লিলির স্বামী মিলন বেপারীর সাথে মুঠোফোনে গনমাধ্যম কর্মীদের জানায়, আমি কোন তালা ভাঙিনি, ওটা খোলা ছিল। আমার বাসার কয়েকটি গাছ ঝড়ের আঘাতে পড়ে যাওয়ায় সেগুলো কেটে ওখানে রেখেছি।’ মিলন বেপারী আরও বলেন, ‘ ওই জায়গা আমার। এতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতার দাপটে দখল করে রেখেছিল। আমার যথাযথ কাগজপত্র আছে।
এ বিষয় নিয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো।’ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভানেত্রী সালমা বেগম লিলি বলেন, ‘ আমার বিয়ের আগ থেকেই দেখেছি ওই জায়গা আমার শ্বশুরের ছিল। ওই জায়গায় অনেক ফলের গাছ ছিল। একটা টিনের ঘর ছিল। যেখানে আমার প্রয়াত শ্বশুর রেশনিং ডিলারশিপ চালাতেন। সেই জায়গা আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব ও রাকিবুল সাহেব জোরপূর্বক গাছ কেটে দখলে নিয়ে তাঁদের দলীয় কার্যালয় বানিয়েছেন।
গত ১৫ বছর উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার করে তাঁরা ওখানে তাদের দলীয় শ্রাদ্ধ, জন্মদিন পালন করেছেন। এতে আমার পরিবার-পরিজনদের নিয়ে গত ১৭ বছর শব্দ দূষনের অত্যাচার সহ্য করেছি।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব তালুকদারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তিঁনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উপজেলা বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ‘ এটি আমার নলেজে নেই। বিএনপি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। এটা আমার দলের সভাপতি হাজী হুমায়ূন সিকদার কিংবা এমপিও প্রশ্রয় দেবেন না। এটা লিলি বেগমের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব, দল এর কোন দায় নেবে না।’
