More

    হাম কেড়ে নিলো আয়মানের প্রাণ: ঢাকায় চিকিৎসাধীন শিশুর করুণ বিদায়

    অবশ্যই পরুন

    ওবায়দুর রহমান, দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: অবশেষে থেমে গেল ছোট্ট আয়মানের জীবনযুদ্ধ। হাম ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালো মাত্র সাড়ে ৬ মাস বয়সী এই নিষ্পাপ শিশু। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারসহ পুরো এলাকায়। জানা গেছে, আয়মান পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী আবু তালেবের ছেলে। তার বাবা সৌদি আরবে কর্মরত এবং মা লামিয়া সন্তানকে নিয়ে দেশে অবস্থান করছিলেন।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের এক সপ্তাহ পরে দাদাবাড়ি ফরিদপুর রাজবাড়ী বেড়াতে গেলে সেখানে বসে জ্বর আসে, তখন রাজবাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ফরিদপুর জায়েদ মেডিকেলে ৩ দিন চিকিৎসা নেয়ার পরে মোটামুটি সুস্থ হয়। হঠাৎ গত ১৯ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ হয়ে আয়মানকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখনই তার শরীরে হাম ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়ে। দিন যত গড়িয়েছে, ততই অবনতি হতে থাকে তার শারীরিক অবস্থা। পরবর্তীতে আট দিন পরে ২৭ এপ্রিল উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

    ২৯ এপ্রিল ডেমরার মাতুয়াইল এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে পিআইসিইউতে রাখা হয়। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তিন দিনের বিশেষ চিকিৎসা শুরু করেন। পরিবারও আশায় বুক বেঁধেছিল—হয়তো সুস্থ হয়ে আবার মায়ের কোলে ফিরবে ছোট্ট আয়মান। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি। অবস্থার আরও অবনতি হলে ১ মে তাকে মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপরও থামেনি ভাইরাসের আক্রমণ। ২ মে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

    সবশেষে ৩ মে রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর একটি নবজাতক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোট্ট আয়মান। প্রায় এক মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানে সে। পরিবারের স্বজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির জন্য দোয়া চেয়ে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছিল।

    কিন্তু সব প্রার্থনাকে পেছনে ফেলে চিরবিদায় নেয় সে। মৃত আয়মানের মামা কলেজ শিক্ষক সোহেল আহম্মেদ বলেন, হাসপাতালে নিয়মিত বহু শিশু মারা যাচ্ছে কিন্তু মিডিয়ায় ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। আমার ভাগিনাকে নিয়ে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় দেখেছি প্রতিদিন যে পরিমাণ শিশু হামে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হচ্ছে তার চেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে ঐ একটা হাসপাতালেই।

    স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগ হাম এখনো এভাবে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এমন মর্মান্তিক ঘটনা রোধ করা কঠিন বলেও মত তাদের। ছোট্ট আয়মানের এই বিদায়ে নীরব হয়ে গেছে একটি পরিবার, স্তব্ধ হয়ে গেছে একগুচ্ছ স্বপ্ন।#

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Cons: Need to register to gain access to real time cam advice Need to choice put 3x just before withdrawing

    It normal-volatility slot enjoys a varying RTP as high as % and you may an optimum finances you can...