More

    ভোলায় কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘কালাচান’ ও ‘সাদাচান’

    অবশ্যই পরুন

    ভোলায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিক্রির উদ্দেশে ২২ মণ ওজনের ‘কালাচান’ ও ১৮ মণ ওজনের ‘সাদাচান’ নামে দুটি গরু প্রস্তুত করেছেন এক খামারি। যা আশপাশের লোকজনের মধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরমনোষা গ্রামের বেপারি বাড়িতে দুলাল বেপারি আসন্ন ঈদকে ঘিরে তার খামারে পরমযত্নে দেশীয় পদ্ধতিতে মোট ১০টি গরু লালন-পালন করছেন।

    এরমধ্যেই রয়েছে হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের কালাচান ও সাদাচান। কালাচানের দাম হাঁকাচ্ছেন ৮ লাখ টাকা ও সাদাচানের দাম ৭ লাখ টাকা। প্রতিটি গরুকে ভিন্নভাবে দৈনিক দুই বেলায় খাওয়ানো হয় ৯ কেজি করে ১৮ কেজি দাদানার খাবার। এ ছাড়া, খামারটির ছোট সাইজের আরও সাতটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সরেজমিনে খামারটি ঘুরে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি। এতে জড়িত রয়েছেন খামারির স্ত্রী ও ছেলে।

    এ যেন নিজেদের পরিবারেরই সদস্যে পরিণত হয়েছে গরুগুলো। খামারি জানান, স্থানীয় মালেরহাট এলাকার একটি খামার থেকে কালাচান ও সাদাচানের মাকে ক্রয় করেন তিনি। বাচ্চা প্রসবের পর পুনরায় প্রজনন ক্ষমতা হারানোয় হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের সেসব গরু বিক্রি করে বাচ্চা দুটিকে লালন-পালন শুরু করেন। বর্তমানে কালাচান ও সাদাচানের বয়স প্রায় তিন বছর।

    খামারি দুলাল বেপারি বলেন, আমি পেশায় একজন গরুর বেপারী, কেনাবেচা করি। আমার খামারের হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের দুটি গাভীর বাচ্চা হচ্ছে কালাচান আর সাদাচান। গত তিন বছর ধরে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করতেছি। কালাচানের ওজন প্রায় ২২ মণ আর সাদাচানের ওজন প্রায় ১৮ মণ। কালাচানের দাম নির্ধারণ করেছি ৮ লাখ আর সাদাচানের দাম ৭ লাখ। মোট ১৫ লাখ টাকার কমে গরু দুটি বিক্রি করলে ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, কালাচান আর সাদাচান আমার অনেক শখের গরু।

    গরুগুলোকে সন্তানের মতো আদর-যত্নে বড় করেছি। প্রতিটি গরুকে সকাল-বিকেল ৯ কেজি করে দানাদার খাবার খাওয়াই, এরমধ্যে রয়েছে ২ কেজি মিস্টি কুমড়া, ১ কেজি আলু, ১ কেজি গরুর ফিড, আড়াই কেজি ভুট্টার ভূসি ও আড়াই কেজি গমের ভূসি। এ ছাড়া, প্রতিদিন দুপুরে ৫ কেজি করে খেতে উৎপাদিত জার্মান ঘাস (নল ঘাস) খাওয়াই। প্রতি শুক্রবারে ১ কেজি করে আপেল অথবা কমলা খাওয়াই।

    আসলে গত দেড় বছর ধরে গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ভূসির দাম বেড়েছে প্রকারভেদে ২৫০-৪০০ টাকা, এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। খামারি দুলাল বেপারি আরও বলেন, আমি গরু দুটির আকাশছোঁয়া দাম নির্ধারণ করেনি, ১৫ লাখ টাকার কমে বিক্রি করলে আমার মূলধন উঠবে না, খরচ হয়েছে বেশি। এর কমে হলে গরুগুলো বিক্রি করবো না, খামারে রেখে আরও একবছর পালবো। আমার গরুর কোনো ঝুঁকি নেই, কোনো অসৎ উপায়ে গরু মোটাতাজা করিনি।

    এ ছাড়া, আমার খামারের ১০টি গরুর মধ্যে ৯টি গরু বিক্রি করবো, পরবর্তীতে আবার কিনবো। মূলত গরু পালন করার উদ্দেশ হলো- প্রতিদিন অল্পঅল্প করে বিনিয়োগ করি, পরবর্তীতে গরু বিক্রি করলে একসঙ্গে টাকা পাই। তবে আশা করছি, এ বছর ন্যায্য দামে আমার গরুগুলো বিক্রি করতে পারবো, এতে লাভবান হবো। খামারির ছেলে মো. আমিন বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে লালন-পালন করতে করতে কালাচান ও সাদাচান আমাদের পরিবারের সদস্যে পরিণত হয়েছে।

    পড়াশোনার পাশাপাশি খামারে গরুর যত্ন নেই। এতবড় গরু, অথচ আমাদের সঙ্গে শিশুর মতো আচরণ করে, গরুগুলো বিক্রির কথা মাথায় আসলে মন খারাপ হয়ে যায়। ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইফুল আজিজুল ও সালাম বেপারি ঢাকা পোস্টকে বলেন, কালাচান ও সাদাচানের মতো এত বড় গরু আমাদের গ্রামে আর নেই। গরুগুলো দেখতে দূরদূরান্তের মানুষজন আসেন।

    সময় পেলেই আমরা গরুগুলো দেখতে যাই। আমাদেরও ইচ্ছে আছে দুলাল বেপারির মতো গরুর খামার দেব এবং বড় বড় গরু পালবো। এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, খামারি দুলাল বেপারি আমাদের সঙ্গে সার্বিক পরামর্শ করে প্রাকৃতিক উপায়ে কালাচান ও সাদাচানকে লালন-পালন করছেন।

    আশা করছি তিনি কাঙ্খিত দামে গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন এবং তিনি লাভবান হবেন। খামারিরা যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্য আমরা তাদেরকে প্রযুক্তিগত অন্যান্য পরামর্শ প্রদান করছি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Cons: Need to register to gain access to real time cam advice Need to choice put 3x just before withdrawing

    It normal-volatility slot enjoys a varying RTP as high as % and you may an optimum finances you can...