More

    বরিশালে ৭ দিনে করোনায় ৪ জনের মৃত্যু, সুস্থ হয়ে বাড়ি যেতে পারেননি কেউ

    অবশ্যই পরুন

    বরিশাল বিভাগে ৭ দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪ জনের। এই সময়ের মধ্যে ৪১ ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত কোনও রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারেননি।

    বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    গত ১২ এপ্রিল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেহেন্দিগঞ্জের আন্দারমানিক গ্রামের এক বৃদ্ধ এবং একই জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গারহাট গ্রামের আরেক বৃদ্ধের শরীরে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বরিশালে। করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ওই রাতেই এক গণবিজ্ঞপ্তিতে নগরীরসহ পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করে বরিশাল জেলা প্রশাসন।

    রবিবার বিকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ৪১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২১জন। যার মধ্যে ৬ জন ছিলেন আইসোলেশনে। অন্যরা বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    এছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জনসহ মোট ৪ জন বরিশাল বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। যদিও হাসপাতালে গত শুক্রবার ভোরে (নারী) এবং সন্ধ্যায় (পুরুষ) মারা যাওয়া দুজনের নমুনা পরীক্ষার ফল (পজিটিভ) রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে তাদের মৃত্যুর পরে।

    অপর দুজনের মধ্যে জেলার মুলাদীর নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার এক বৃদ্ধ মারা যান। মারা যাওয়ার দুদিন পর গত বুধবার তার নমুনায় পজিটিভ হয়। বরগুনার এক পুরুষ ব্যক্তি সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যায়। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এই তথ্য জানিয়েছেন।

    এদিকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনার উপসর্গ নিয়ে বরিশালে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ মার্চ রাত সোয়া ১২টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে শের-ই বাংলা মেডিক্যালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তির পরপরই নগরীর কাউনিয়া সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার এক মধ্যবয়সী নারীর (৪০) মৃত্যু হয়। ৬ এপ্রিল করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সদর উপজেলার তালতলী বাড়ি মহলের এক বাসিন্দা (৫২) মারা যায়। যদিও নমুনায় তারা করোনা রোগী ছিলেন না বলে জানা গেছে।

    গত শনিবার সকাল ১০টা ১০মিনিটে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিরোজপুরের কাউখালীর বিয়ারঝুড়ি এলাকার এক বৃদ্ধ (৮০) মারা যায়। জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে ১৫ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হলেও মারা যাওয়ার আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার নমুনা পরীক্ষা নেগেটিভ আসে। সবশেষ রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শের-ই বাংলা মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার এক ব্যক্তির (২৫) মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে গত শুক্রবার রাত ৯টায় জ্বর-সর্দি-কাশির তথ্য গোপন করে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই রাতেই তাকে করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে কর্তৃপক্ষ।

    তবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনও রোগী সুস্থ হয়ে এখন পর্যন্ত বাড়ি ফিরে যেতে পারেননি।

    বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, যাদের করোনা পজেটিভ পাওয়া যাচ্ছে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশপাশি তাদের নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তারা বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন। তবে করোনা পজিটিভ হওয়া কোনও চিকিৎসাধীন রোগীর দ্বিতীয়বার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখন পর্যন্ত নেগেটিভ আসেনি। এ কারণে তারা কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি যেতে পারেননি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Dragon Money: Символ удачи в мире онлайн-слотов

    Dragon Money: Символ удачи в мире онлайн-слотов В азиатской тематике дракон олицетворяет могущество и богатство. Слот Dragon Money переносит игроков...