More

    মামলা নিতে থানা ঘেরাও, বন্ধ করা হলো বাস-লঞ্চ চলাচল

    অবশ্যই পরুন

    বরিশাল নগরীর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার মামলা না নেওয়ায় কাউনিয়া থানা তিন ঘণ্টা ঘেরাও রাখেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার (২০ জানুয়ারি) রাত ৯টায় মামলা নেওয়ার পর ঘেরাও প্রত্যাহার করা হয়। তবে এখন অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে দূরপাল্লা-অভ্যন্তরীণ রুটের বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    মামলায় বিসিক শিল্প নগরীর ফরচুন সু কোম্পানির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়। অপর আসামিরা হচ্ছেন– শফিক ও রবিউল এবং ১২ জন অজ্ঞাতনামা।

    মামলার বাদী নগরীর ১নং ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইট-বালু-সিমেন্ট ব্যবসায়ী সোহাগ হাওলাদার। তিনি বিসিক এলাকার আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে। বাদী জানান, বিভিন্ন সময় মিজানুর রহমান বাকিতে মালামাল নেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে টাকা না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন। এমনকি টাকা চাইলে আমাকে ভয়ভীতি দেখান। সর্বশেষ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিসিক এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় আমার পথরোধ করেন আসামি মিজান। এরপর তার গাড়ি থেকে নেমে আমার বাঁ পাজোরে শর্টগান ঠেকান। ওই দুই আসামির সহযোগিতায় আমাকে অপহরণ করে ফরচুন সু কোম্পানির কারখানায় নিয়ে যান। সেখানে আমার উপর নির্যাতন চালান। বিষয়টি জানার পর কাউনিয়া থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। কিন্তু থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নেওয়ায় বিষয়টি মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে অবহিত করি। তারা আসার পর দলীয় নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে রাখেন। মামলা নেওয়ার পর ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়।’

    বন্ধ করা হয় বাস ও লঞ্চ চলাচলএ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, ‘কোনও চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা সোহাগকে অপহরণ করে নিয়ে তার উপর নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। আমার মতে যে কোনও মানুষের আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেখান থেকেও এ মামলা নেওয়া উচিত ছিল। পরে মামলা নিলে নেতাকর্মীরা সেখান থেকে চলে আসেন।’

    বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে জানান, নগরীর বিসিক রোডের একটি ফ্যাক্টরির লোকজন পরিবহন শ্রমিক সোহাগ হাওলাদারকে দুপুর ২টার দিকে আটকে মারধর করে। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শ্রমিকরা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ সোহাগকে ছেড়ে দেয়। তবে ওই শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে থানায় মামলা নিতে চায়নি পুলিশ। মামলা নেওয়ার দাবিতে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করা হয়।’

    বন্ধ করা হয় বাস ও লঞ্চ চলাচলটেম্পু, মাহিন্দ্রা ও থ্রি হুইলার মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন মোল্লা লিটন জানান, মামলা না নেওয়া এবং মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেন জানান, তাদের শ্রমিকের উপর নির্যাতন করা হয়েছে। সে আহত হয়েছে। এই ঘটনার আইনানুগ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।’

    এদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। একইভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ। রাত ৯টার মধ্যে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও লঞ্চ না ছাড়ায় যাত্রীরা স্টাফদের কাছে জিজ্ঞাসা করেও কোনও উত্তর পাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক লঞ্চ মালিক জানান, সোহাগের দায়েরকৃত মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়।

    এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সোহাগ মামলা দায়ের করেছে। তবে লঞ্চ ও বাস কী কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে তা আমি জানি না।’

    পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানান, ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান দাবি করেন, তার কারখানার এক নারীকর্মীকে উত্ত্যক্ত করছিলেন সোহাগ। তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে মারধর এবং অস্ত্র ঠেকানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Finaston 1 mg Utinon: Ciclo de Preparados de Insulina

    Introducción a Finaston 1 mg Utinon El Finaston 1 mg Utinon es un medicamento utilizado principalmente en el tratamiento de...