More

    ওসি নুরুল ইসলামের কারিশমায় ঘরে ফিরলো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

    অবশ্যই পরুন

    বরিশালে বাস শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট হওয়া বিরোধের প্রাথমিক সমাধান হয়েছে। যার ফলে বাস চলাচল ইতিমধ্যে স্বাভাবিক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম পিপিএম।

    সূত্রে জানায়, ৮দিনের ছুটি শেষে বরিশালে এসেই ছুটে যান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে। তাদের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দেওয়া মাত্রই আন্দোলন স্থগিত করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি বরিশাল নগরীতে ছড়িয়ে পরলে নানামুখে শোনা যায় ওসি নুরুল ইসলামের কারিশমায় স্বস্তি ফিরেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের।

    উল্লেখ্য যে, বরিশাল নগরীতে একটি মেসে হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-কুয়াকাটা সড়ক সকাল থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে বরিশাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের আট রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে।

    সবশেষ বুধবার দুপুর দেড়টা পর্যন্তও সড়কে অবস্থান নিতে দেখা যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের।

    এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প পথে কিছু যানবাহন চলাচলের চেষ্টা করলেও তাতে যানজট কমেনি। সকাল থেকে রাস্তায় আটকে থাকায় যানচালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। কিছু যাত্রীকে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা গেছে।

    সকাল থেকে রাস্তায় আটকে থাকায় যানচালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। কিছু যাত্রীকে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা গেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. সাদেকুল আরেফিন অবরোধ তুলে নিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

    পটুয়াখালী থেকে বরিশাল গিয়েছিলেন সুলতানা ফিরোজ। তিনি জানান, খয়রাবাদ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর বাস আর চলেনি। সেখানে যাত্রীদের নেমে যেতে বলা হয়। তিনি সেখান থেকে হেঁটে রওনা হয়েছেন।

    ব‌রিশাল থে‌কে বরগুনাগামী শওকত আলী বলেন, ‘অ‌নেক মালামাল লইয়া ব‌রিশাল রওয়ানা হ‌ই‌ছি। কী যে ভোগা‌ন্তি‌তে পড়‌ছি তা অ‌াল্লাহ ছাড়া কেউ বোজ‌বে না।’

    বাউফল থেকে ঢাকাগামী রওশান আরা মুরশীদ ব‌লেন, ‘ব‌রিশা‌লের গা‌ড়ি‌তে আস‌ছিলাম। রাস্তায় না‌মি‌য়ে দি‌ছে। এখন সন্তান নি‌য়ে হাঁট‌ছি শুধু।’

    আরেক যাত্রী সুজয় দাস শুভ ব‌লেন, ‘ঝা‌মেলা হই‌ছে ছাত্র আর শ্রমিক‌গো ল‌গে। ভুগ‌তে‌ছি মোরা। এটা কিছু হয় না। ফাও মানুষ‌রে ভোগায়।’

    রাস্তা সচলের বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মাহামুদুল্লাহ শামীম জানান, তাদের চেষ্টা চলছে। তবে কখন নাগাদ যান চলাচল স্বাভাবিক করা যাবে তা তিনি বলেননি।

    এদিকে সড়ক অবরোধ করে রাখা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে সকাল ১০টার দিকে সেখানে যান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. সাদেকুল আরেফিন। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মেসে হামলার ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

     

    এর পর অবরোধ তুলে নিতে ওই শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ কার্যালয়ে যান তিনি। সেখান থেকে বের হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। মেসে হামলাকারী পরিবহন শ্রমিকদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত সড়কে অবরোধ চলবে।

    তবে বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলাই হয়নি। কেউ থানায় লিখিত অভিযোগও দেয়নি।

    হামলার ঘটনায় কোনো পরিবহন শ্রমিকের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাউসার হোসেন শিপন। যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ নিরসনে সড়ক থেকে শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    উল্লেখ্য যে,

    নগরীর রুপাতলী হাউজিংয়ের একটি মেসে মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই হামলা হয়। এতে আহত হন ১১ শিক্ষার্থী। তারা শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে রুপাতলী বাস স্ট্যান্ডে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে রাতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

    তারা বলেন, দুপুরের ওই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুরেই একবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়। সে সময় অবরোধের নেতৃত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহামুদুল হাসান তমালের মেসেই রাতে হামলা চালানো হয়।

    শিক্ষার্থীরা জানান, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের একটি দল তমালকে মারতে গেলে খবর পেয়ে আশপাশের মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা সেখানে যায়। সে সময় হামলায় আহত হন ১১ জন। হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সার্জারি বিভাগে তারা চিকিৎসাধীন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে রাতেই তিনি অন্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন।

    রাতেই ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে কিছুক্ষণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। সকাল থেকে আবারও শুরু হয় তাদের অবরোধ।

    বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তৌফিকুল সজল ও ফারজানা আক্তার বাড়ি যাওয়ার জন্য বিআরটিসি কাউন্টারে যান। সেখানে রফিক নামের একজন বাস স্টাফের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সজলকে ছুরিকাঘাত করেন রফিক। লাঞ্ছিত করা হয় ফারজানাকে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা ২টা থেকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে কয়েক ঘণ্টা অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ভাঙচুর করা হয় বিআরটিসির বাস কাউন্টারও।

    ওসি জানান, হামলার অভিযোগে রফিককে আটকও করা হয়েছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Wetten ohne Umwege: Wie sportwetten ohne oasis den Einstieg erleichtern

    Sportwetten ohne Oasis: Direkter Einstieg in die Welt der Sportwetten Warum Sportwetten ohne Oasis für Einsteiger attraktiv sind Der Einstieg in...