More

    চরমোনাইতে পাউবো ও সওজের ভূমি দখল দোকান নির্মাণ

    অবশ্যই পরুন

    বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই খেয়াঘাট সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের জমিতে গড়ে উঠেছে একাধিক দোকান। স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি মিলে কীর্তনখোলা নদীর পূর্বপ্রান্তে সড়কের পাশে পাউবো ও সওজের ভূমিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছে। দীর্ঘ বছর তারা সরকারি জমিতে দোকান তুলে ভাড়া আদায় করে নিজেদের আখের গুছাচ্ছে।

    সম্প্রতি সেই দোকানগুলো পেছনের ভূমি মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন তার জমিতে ভবন তুলতে গেলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- কীর্তনখোলার পূর্বপাড় বেলতলা খেয়াঘাট সংলগ্ন রাস্তার পাশে স্থানীয় আরিফুর রহমান, সাইফুর রহমান টিপু, মো. মোকলেস সিকদার, মো. খবির খান এবং আসাদুজ্জামান রাসেল মোল্লা, ইউপি মেম্বার সৈয়দ শীষ মো. মামুন, বাবুল খান, ফার্মাসি দোকানের মালিক আবু সালেহ, মামুন হাওলাদারসহ কতিপয় ব্যক্তি পাউবো ও সওজের ভূমিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছে।

    এমনকি ভাড়ার পাশাপাশি অগ্রিম টাকাও নেয়া হয়েছে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে। কেউ কেউ আবার দোকান নির্মাণ করে চরা দামেও বিক্রি করে দিয়েছেন। ইউপি মেম্বার সৈয়দ শীষ মো. মামুনের ভাড়াটিয়া সুজন ডাক্তার বলেন- আমি পেটের দায়ে দোকান চালাই। আমি দোকান ভাড়া নিয়েছি, মাসে ৪ হাজার টাকা করে ভাড়া দেই। আমি জানি এটা সরকারি জমি, কিন্তু আমিতো দোকান নির্মাণ করিনি। রাহাত নামের এক দোকানি বলেন- আমি ৩০ হাজার টাকার বিনিময় দোকান মোকলেস সিকদারের কাছ থেকে দোকান কিনেছি।

    আগে ভাড়ায় চালাইতাম। আরিফুর রহমান মুঠোফোনে বলেন- ভাই ওখানে আমরা ১২ বছর যাবত দোকান চালাই। জানি ওটা সওজের জমি। তারা বললে আমরা দোকান সরিয়ে নেব। সরকারি জমিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ভাই আপনি শহরে আসেন আপনার সাথে কথা বলি। সেখানে আপনার কয়টি দোকান রয়েছে সেবিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুর বলেন- দুইটা দোকান রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে চারটি দোকানের মালিক তিনি এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি।

    সাইফুর রহমান টিপু বলেন- আমার নিজের দোকান, আমি নিজেই চালাই। আগে প্রবাসে ছিলাম। এখন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে দোকান চালাই। এখানে দোকান না থাকলে ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবো না। সরকারি জমিতে দোকান তুলে সেই দোকান দেখিয়ে ব্যাংক লোন নিয়েছেন কিভাবে এমন প্রশ্নের উত্তরে টিপু বলেন- অনেক বিষয় আছে, সব কিছু বলা যাবে না।

    আসাদুজ্জামান রাসেল মোল্লা বলেন- আমি আগে এই দোকান ভাড়া চালাইতাম। এখন আমি দোকান কিনে নিয়েছি। এটা অবৈধ দোকান আমি মানি। কিন্তু দোকান না থাকলে খাবো কি? ফার্মাসি দোকানের মালিক আবু সালেহ বলেন- আমরা সবাই মিলে এখানের অবস্থা পরিবর্তন করেছি।

    এখানে আমার দুই দোকান আছে, একটা আমি চালাই আরেকটা ভাড়া দিয়েছি। ইউপি মেম্বার সৈয়দ শীষ মো. মামুন বলেন- আমরা এখানকার রাস্তা বেঁধে সড়ক নির্মাণ করে দোকান তুলেছি। অল্প কয় টাকা ভাড়া নেই। এখন থেকে ভাড়া বাদ দিয়ে দোকান আমরাই চালাবো।

    সড়ক ও জনপদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অঞ্জন রায় বলেন- বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সওজের ভূমি দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করার কোনো সুযোগ নেই, তারপরেও যদি এমনটি কেউ করে থাকে তাহলে ব্যবস্থাগ্রহণের সুযোগ আছে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খালেদ বিন অলীদ বলেন- বিষয়টি আমার জানা ছিল না, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন- বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি দুই দপ্তরের প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    How to Log In to SpinFin From Multiple Devices

    ContentsInitial Account Setup and Security PrerequisitesStep-by-Step Login Process on Different PlatformsManaging Active Sessions and Troubleshooting Login IssuesAccessing Bonuses and...