পদোন্নতির দাবীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষকদের শাটডাউন কর্মসূচি। প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝুলিয়েছিলেন তারা। দুইদিন পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তালাগুলো খুললেন উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর তৌফিকুল আলম। শিক্ষকদের আন্দোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকদিন ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনে নেওয়া এই উদ্যোগ- জানালেন ভিসি।
দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন অন্তত ৬০ জন শিক্ষক। তাদের অভিযোগ, পদোন্নতির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তা বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
বরং ওই সভায় শিক্ষকদের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি বলে উঠেছে অভিযোগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা সাধারণ সভা করে গত ১০ মে থেকে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন। উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়, একযোগে বন্ধ রাখা হয় ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। প্রশাসনিক পদ থেকে সড়ে দাঁড়ান কয়েক শিক্ষক।
এই শাটডাউনে স্থবির বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ। অনেকের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে তৈরি হবে সেশন জট। বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র শরিফুল আলমের মত, ‘পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষকদের আইন বহির্ভূত দাবীর কারণে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়মনীতি অনুসরণ করে পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজন সময়।
এর মধ্যে আজ সকালে প্রশাসনিক দপ্তরের তালা খুললেন ভিসি। তিনি বলেছেন, ‘ইউজিসির নিয়মের বাইরে গিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি, শিক্ষকদের আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। এমন অবস্থার মধ্যে প্রশাসনিক দপ্তরের তালা অপসারণের উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। দপ্তরগুলো চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
