More

    সেবার মান উন্নয়নে হার্ডলাইনে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল প্রশাসন

    অবশ্যই পরুন

    রোগী সেবার মান উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর মেডিকেল কলেজের সকল বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক, সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক ছাড়াও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের নিয়ে পৃথক বৈঠক করেছেন।

    পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় , স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্য সমাধানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

    টানা দুই সপ্তাহ ধরে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র জনতার আন্দোলন ও তাদের দাবির প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছেন তার বিস্তারিত তথ্য প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর।

    রবিবার (১০ আগস্ট) পরিচালকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় তিনি উল্লেখ্য করেন, রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালে সকল স্বেচ্ছাসেবী ট্রলি ম্যানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নতুন ৪৬ জন জনবল প্রাপ্তির পর বর্তমানে ট্রলি ম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সরকারি স্টাফদের।

    হাসপাতালে রোগী বহনের সকল পুরাতন ট্রলি মেরামত ও নতুন করে আরো ট্রলি প্রদান করা হয়েছে। ৭টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই মনিটরিং টিম সকাল, বিকাল ও রাতে হাসপাতালের বহিঃ ও অন্তঃ বিভাগে মনিটরিং করেছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ১০০টি সিলিং ফ্যান লাগানো, হাসপাতাল সকল টয়লেট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে অস্থায়ী ভাবে ৯০ জন হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের ব্যবস্থা করা, হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নের নিমিত্তে ৮টি অটোমেটিক মেশিন চলমান আছে।

    আরো ১২টি অটোমেটিক মেশিন আগামী সেপ্টম্বরের শেষ নাগাদ সরবরাহ করা হবে। হাসপাতাল জীবানুমুক্ত রাখার জন্য ২০টি স্প্রে মেশিন আনা হয়েছে। যা চলমান আছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে হাসপাতালের সকল টয়লেটের দরজা ও জানালা মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে। নতুনভাবে আরো ১০০টি বেড ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বেড গুলো বসানো হবে।

    হাসপাতালে রোগীর দালাল, বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি, হকার ছদ্মবেশে হাসপাতালে প্রবেশকারীদের দেখা মাত্রই ধরে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অসংখ্য দালাল, প্রতারক ও হকারকে আটক করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালে অবাধে প্রবেশ প্রতিহত করা হয়েছে। ছাত্র জনতার অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালের একজন ওয়ার্ড মাস্টার ও একাধিক স্টাফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগ তদন্তের গঠিত কমিটির তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছে। অভিযোগ সংগ্রহ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে নষ্ট লিফট মেরামতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আরো জোরদার করার জন্য নতুন করে আরো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের চাহিদা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। রোগী ও স্বজনদের সাথে ভাল ব্যবহারসহ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সকল নার্সদের সতর্ক করা হয়েছে।

    গত ৭ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখ হাসপাতালের সকল নাসিং ইনচার্জ এর সাথে জরুরি সভায় এই সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে। নির্মাণাধীন ৪৬০ শয্যা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদ্রোগ চিকিৎসা কেন্দ্রের কাজ নির্মাণ দ্রুত শেষ করে হস্তান্তরের বিষয়ে গত ৭ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে উক্ত ভবন নির্মাণকাজ শেষ হবে।

    একই ভাবে দ্রুততার সাথে বরিশাল শিশু হাসপাতাল চালুর প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। ডা ডিসেম্বরে হস্তান্তর হওয়ার কথা। হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, ৩য় ও ৪থ শ্রেনীর কর্মচারী এবং আউটসোসিং জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে টেলিথেরাপি, এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির চাহিদা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের লিলেন প্লান্ট আধুনিকায়ন করণের নিমিত্তে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ২ মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পাদন করা হবে। পরিচালক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ্য করেন , বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা ছাড়াও ঢাকা বিভাগের মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ কিয়দাংশ ও খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার অনেক রোগীসহ দেড় কোটি মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল। ১৯৬৮ মাত্র ৫০০ শয্যার অবকাঠামো নিয়ে নির্মিত হয়ে ছিল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি।

    ৫৮ বছর পর হাসপাতালটির অবকাঠামোগত তেমন উন্নতি হয় নি। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন নতুন ভাবে ৭০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। ফলে হাসপাতালে অন্তঃ বিভাগে ভর্তি থাকেন প্রায় ৩ হাজার রোগী। বহিঃ বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার রোগী। প্রতি ১ জন রোগীর সাথে তাদের স্বজন কিংবা দর্শনার্থী আসেন ৩ জন করে। মোট ৬ হাজার রোগীর সাথে ৩ জন করে স্বজন কিংবা দর্শনার্থী যোগ করলে ২৪ হাজার মানুষের সমাগম তার সাথে হাসপাতাল ও কলেজ ও হাসপাতালের ৫০০ চিকিৎসক, ১০০০ খানেক নার্স, হাসপাতালের প্রায় ৫০০ অন্যান্য স্টাফ, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, আইএইচটি শিক্ষার্থী, নাসিং কলেজের শিক্ষার্থীসহ আরো ৬ হাজার সেবাদানকারী। ওই ২৪ হাজার রোগী ও দর্শনার্থীর সাথে এই ৬ হাজার মিলিয়ে প্রতিদিন ৩০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এই হাসপাতালে।

    কিন্তু অবকাঠামোগত কোনো উন্নতি না হওয়ায় মানুষের অতিরিক্ত চাপে হাসপাতালের টয়লেট ও পরিবেশ নোংড়া হওয়াসহ সর্বক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। শয্যা তুলনায় ছয় গুন রোগী ভর্তি হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা নিতে হয় মেঝে কিংবা বারান্দাতে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এখানে পদায়নকৃত স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স এবং স্টাফদের।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Betarctica Instant Banking Withdrawals: Providers List

    ContentsSupported Instant Banking Providers at BetarcticaStep-by-Step Guide to Requesting a WithdrawalProcessing Times and Financial LimitsEssential KYC Verification for First-Time...