More

    বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিফট সংকট, ভোগান্তিতে আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীরা

    অবশ্যই পরুন

    বরিশাল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দশতলা ভবনে লিফট সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আদালত চলাকালীন সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুইটি লিফটের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শত শত মানুষকে। ভবনটিতে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মোট ১১টি কোর্টে মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এসব আদালতে আইনজীবী, পুলিশ, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ জনগণকে একই ভবনের দুইটি লিফটেই উঠানামা করতে হয়। প্রতিটি লিফটের ধারণক্ষমতা ১৩ জন হলেও একসঙ্গে ১৭–১৮ জন পর্যন্ত উঠতে দেখা যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো রয়েছেই, একই সঙ্গে সৃষ্টি হয় তীব্র ভিড় ও বিশৃঙ্খলার। বিচারপ্রার্থী এক নারী বলেন, “আমরা পুরুষদের সঙ্গে গাদাগাদি করে লিফটে উঠতে পারি না।

    আলাদা লিফট না থাকায় প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছি।” বিচারপ্রার্থী ছালমা বলেন, আমি মামলার বাদি। দীর্ঘ সময় লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে আছি, ভিড় ঠেলে উঠতে পারছি না। আমি ৯তালায় উঠবো। পুরুষদের সঙ্গে ভিড় ঠেলে গাদাগাদি করে উঠতে তো সমস্যাই হয়। মহিলাদের জন্য আলাদা লিফট প্রয়োজন।” একজন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ বিচারপ্রার্থী জসিম উদ্দিন জানান, হাঁটুর ব্যথায় সিঁড়ি বেয়ে ওঠা সম্ভব না। কিন্তু লিফটে এমন ভিড় যে, উঠতেই পারি না। অনেক সময় আদালতের সময়ই পেরিয়ে যায়।”

    একই লিফটে আসামি, পুলিশ, সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা একসঙ্গে ওঠানামা করায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ভিড় ঠেলে আসামি আদালতে নেওয়া অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে নারী বিচারপ্রার্থী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। পুলিশ সদস্যরা জানান, কারাগার থেকে আদালতে সকল আসামী হাজির করার জন্য আনা হয়।

    এ সময় লিফট সংকটে হিমশিম খেতে হয়। সীমিত জায়গার কারণে একসঙ্গে আসামি ও পুলিশ সদস্য ওঠানোও কঠিন হয়ে পড়ে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আসামি ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপদভাবে ওঠানামা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।” আইনজীবী ইসরাত জাহান সুমা বলেন, “আদালতের নির্ধারিত সময়ে শুনানিতে উপস্থিত হতে অনেক সময় বিলম্ব হয় লিফটের দীর্ঘ সিরিয়ালের কারণে।

    এতে মামলার কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।” ভবনের দুটি লিফটই প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন আদালত ভবন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটে প্রায়ই। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় টেকনিশিয়ান এসে খুলে দিতে হয় আটকে থাকা দরজা। আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চীফ জুডিশিয়াল, সিনিয়র জুডিশিয়ালসহ মোট ১১টি কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে এই ভবনে।

    মহানগর আদালত, অতিরিক্ত মহানগর আদালত, সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমও এখানে চলছে।” বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এসএম সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, “বিচার বিভাগের জুডিশিয়াল ডিপার্টমেন্ট মাত্র দুইটি লিফট স্থাপন করার কারণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য এটি এখন বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    লিফট সংকটের কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম বিভিন্নভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতি পূর্বে আমাদের মাঝে প্রধান বিচারপতি মহোদয় এসেছিলেন, আমি তার কাছে বিষয়টি ব্যক্ত করার পর তিনি আরও দুটি লিফট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।”

    আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা বলেন, দ্রুত নতুন লিফট স্থাপন ও পুরোনোগুলো সংস্কার করা না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Navigating King Casino Reviews reveals unexpected user-friendly touches that stand out

    Exploring King Casino Reviews: User-Friendly Features That Make a Difference What Stands Out in King Casino Reviews? When diving into King...