More

    বরিশালে সাংবাদিককে বাসায় ঢুকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ

    অবশ্যই পরুন

    পুলিশের বিরুদ্ধে বরিশাল নগরীর একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে এশিয়ান টিভির বরিশাল ব্যুরো ফিরোজ মোস্তফাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে গোড়াচাঁদ দাশ রোডের ‘আল জামিয়া মাদ্রাসা’ ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন। গুরুতর আহত ফিরোজ মোস্তফাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল নাভিদ আনজুমকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহত সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তাফা বলছেন, খেলোয়াড় পরিচয়ে নাভিদ আনজুম দীর্ঘদিন আগে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়েন। এর সুবাদে তিনি প্রায়ই তার অফিসে আসতেন। পরবর্তীতে নাভিদ মাদক সেবন ও অনলাইন ক্যাসিনো চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। “এরপর হঠাৎ করে নাভিদ তার ই-মেইল আইডি হ্যাক হওয়ার জন্য আমাকে দায়ি করে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ঝামেলা করে আসছিল নাভিদ।”

    তিনি বলেন, “সবশেষ আমার পারিবারিক কিছু ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে তিনি ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন। তবে সুবিধা করতে না পেরে গত ২৫ অক্টোবর রাতে নাভিদ লোকজন নিয়ে ফ্ল্যাটে এসে অমানবিক নির্যাতন করে। “ওই দিন থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত নাভিদ ভয় দেখিয়ে আমাকে আটকে রাখে এবং নির্যাতনের পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে গত ২ নভেম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে সহযোগিতা চাই। পরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।”

    ফিরোজ মোস্তফার অভিযোগ, “সেদিনই রাতে থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু পুলিশ সদস্য হওয়ার কারণে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান নাভিদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। এ কারণে ৩ নভেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। “পরে ১৩ নভেম্বর অভিযোগ তদন্ত করার জন্য পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে ডাকেন উপ-কমিশনার (ডিবি) আবুল কালাম আজাদ। কমিশনার বরাবর অভিযোগ দেওয়ায় ওসি মিজানুর রহমান, এএসআই সাঈদ ও কনস্টেবল নাভিদ আনজুম আরও ‘ক্ষুব্ধ’ হয়।

    পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে বসেই নাভিদ হুমকি দেয়। যার ভিডিও আমার সহকর্মীদের কাছে রয়েছে।” ফিরোজ বলছেন, “এর ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে কনস্টেবল নাভিদ আমার বাসায় ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে আমাকে রুমের মধ্যে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যান। “নিজেকে বাঁচাতে ৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগিতা চাই। পরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।”

    মামলা না নেওয়ার প্রসঙ্গে কোতোয়ালি মডেল থানার সাবেক ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “বদলি হয়েছি। এখন এ বিষয়ে কোনো কথা বলবো না।” কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আমি এখানে নতুন এসেছি। তাদের মধ্যে পূর্বে কোনো বিরোধ ছিলো কি-না আমার জানা নেই। “এই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    তিনি বলেন, আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল নাভিদ আনজুমকে আপাতত ফাঁড়ির ইনচার্জের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। আর আহত সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা সুস্থ হয়ে হামলার ঘটনায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Navigating 10cric’s layout feels like second nature before you know it

    With its intuitive design and clearly organized sections, 10cric quickly becomes easy to navigate, allowing users to focus more on the content than on finding their way around.