বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে ডেভিল হান্ট অভিযানে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আটক করায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদকে ফাঁসাতে একটি স্বার্থন্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাকেরগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-১০, তারিখ ১২/৭/২০২৫, ধারা ৪৫৭/৩৮০ (গরু চুরি মামলা)-এর তদন্তে তিনি নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এক মামলার বাদী দিলীপ চন্দ্র দাস (পিতা: মৃত শান্তি রঞ্জন দাস), সাং- বোয়ালিয়া, ৮ নং ওয়ার্ড, ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন, থানা বাকেরগঞ্জ, জেলা বরিশাল।
মামলার বিবাদীরা হলেন-
১) অরুণ চন্দ্র দাস (৪৮),
২) সুশীল চন্দ্র দাস (৪২) — উভয়ের পিতা মৃত শান্তি রঞ্জন দাস,
৩) বিশ্বজিৎ ওরফে বিশু দাস (৩০), পিতা মৃত নিরঞ্জন দাস।
সবাই বোয়ালিয়া, ৮ নং ওয়ার্ড, ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা। এর মধ্যে ১ নং ও ২ নং আসামি বাদীর আপন ভাই এবং ৩ নং আসামি বাদীর ভাইয়ের ছেলে। ১ নং আসামি বোয়ালিয়া গার্লস স্কুলের একজন শিক্ষক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭/৭/২০২৫ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে যে কোনো সময়ে বাদীর চারটি গরু চুরি হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
তদন্তে দেখা যায়, ২ নং ও ৩ নং আসামির মোবাইল ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণে ঘটনার সময় তারা নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিলেন—যা মামলার অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া বাদী এজাহারে বর্ণিত ঘটনার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি এবং চোরাই গরু উদ্ধারও সম্ভব হয়নি।
এসব কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলার তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান সম্ভব না হওয়ায় গত ২৬/১১/২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়। এসআই আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, বাদী ও তার ভাই-ভাতিজাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই একাধিক মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই বাদী এই গরু চুরির মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সম্প্রতি রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া এলাকা থেকে একাধিক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করায় এসআই আবুল কালাম আজাদকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও হেনস্তা করার লক্ষ্যে স্বার্থন্বেষী মহল মামলার বাদীকে প্রভাবিত করে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে মামলার বিবাদী ও বোয়ালিয়া গার্লস স্কুলের শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দাস বলেন, তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী বিভিন্ন লোকের প্ররোচনায় তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মিথ্যা মামলা করেছেন। সম্প্রতি নাড়াকুটার খেড়ে (কুড়ার কুটে) আগুন দেওয়া ও নারিকেল গাছ পোড়ানোর অভিযোগে আরেকটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে, যার তদন্ত এখনো চলমান।
এ বিষয়ে মামলার বাদী দিলীপ চন্দ্র দাসের কাছে এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে যতটুকু জানতে পেরেছেন, এসআই আবুল কালাম আজাদ একজন চৌকস ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা। প্রভাবশালী ডেভিলদের গ্রেপ্তার করায় তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি মনে করেন।
