More

    বরিশালে প্রার্থীদের নামে শতাধিক মামলা

    অবশ্যই পরুন

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ১৮৬টি মামলা। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় এসব মামলার তথ্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। প্রার্থী, আইনজীবী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিমত অনুযায়ী, এসব মামলার সিংহভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাজনিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    পরিসংখ্যান বলছে, মামলা থাকা ২১ জন প্রার্থীর প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গড়ে প্রায় নয়টি করে মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রার্থী, পুলিশ ও আইনজীবীদের বক্তব্যে বিস্ময়কর মিল লক্ষ্য করা গেছে। প্রার্থীদের ভাষ্য, তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বরং বর্তমান বাস্তবতায় যাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করেছেন, বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন তাঁরাই।

    বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ২৫ মামলার আসামি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন,

    “আমরা আইনের পথেই মামলা মোকাবিলা করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এবার মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেই প্রত্যয় নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। মামলা থাকা সত্ত্বেও আমরা ভোট পাওয়ার ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার অর্জন করেছি।”

    বরিশাল-৫ (সদর) আসনের বাসদ প্রার্থী ও তিন মামলার আসামি ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন,

    “বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের রাজনীতি করলেই মামলা দেওয়া এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কার নামে কয়টি মামলা রয়েছে—এই সংখ্যার ভিত্তিতে চরিত্র নির্ধারণ করা অবিবেচনাপ্রসূত। মামলার প্রকৃতি ও সত্যতা যাচাই করাই মুখ্য।”

    হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়—

    বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে রয়েছে ১১টি মামলা।

    বরিশাল-২ (বানারীপাড়া–উজিরপুর) আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি মামলা।

    বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে নয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে ৪১টি মামলা রয়েছে।

    বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সর্বাধিক ৮৬টি মামলা।

    বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের নামে রয়েছে ১৮টি মামলা।

    বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুজনের নামে রয়েছে ১২টি মামলা।

    এর মধ্যে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৮২টি মামলা এবং বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫টি মামলা রয়েছে।

    আইনজীবী আবুল কালাম আযাদ বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থীই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রায় ৯৮ শতাংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। এসব মামলা আদালতের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করতে গিয়ে খুব কম ক্ষেত্রেই টিকে থাকে।”

    আইনজীবী শাহে আলম বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মামলা ছিল দমন-পীড়নের অন্যতম হাতিয়ার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে মামলা ব্যবহৃত হয়েছে। যেহেতু এসব মামলা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে প্রত্যাহার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ কারণে প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাস্তব প্রতিবন্ধকতা নেই।”

    বরিশালের ছয়টি আসনে এবারে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। এই ছয় আসনে ৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৪১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নতুন ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন।

    পুলিশের মতে, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এসব মামলার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যাঁদের নামে মামলা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই বানানো বা জোরপূর্বক দায়ের করা মামলা। এগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা এসব মামলা নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করতে পারেন—এটা রাজনৈতিক বাস্তবতা। তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এমপি প্রার্থীদের কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই; যা আছে, সবই রাজনৈতিক মামলা।”

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    সময় পেরোলেও অটুট বন্ধন—কুয়াকাটায় গলাচিপার এসএসসি ২০০০ ও এইচএসসি ২০০২ ব্যাচের মিলনমেলা

    গলাচিপা উপজেলা প্রতিনিধি: “আমরা আমাদের, আমরা বন্ধুত্বের”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার এসএসসি ২০০০ ও এইচএসসি ২০০২ ব্যাচের...