বরিশাল সংবাদ দাতা: আমে ধান, তেতুলে বান এটি একটা জনপ্রিয় খনার বচন। যা মূলত গ্রামীণ বাংলার লোকজ কৃষি আবহাওয়ার একটি প্রাচীন পূর্বাভাস। অর্থাৎ খনার বচন থেকে এটা বুঝা যায়,যে বছর আম গাছের মুকুল বেশী ধরে সে বছর ধানের ফলন বেশী হয়, অপর দিকে যদি তেঁতুল গাছে বেশি তেঁতুল হয় সে বছর বন্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশী থাকে।
আসলে খনার এই প্রাচীন বচন বর্তমান আধুনিক সমাজে প্রভাব না ফেললেও গ্রামীণ কৃষকের কৃষি নির্ভর জন জীবনে এখনো এই বচনটির রেশ রয়ে গেছে।
বর্তমানে আম গাছে মুকুল চলে এসেছে । প্রতিটি আম গাছেই শোভা পাচ্ছে আমের মুকুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। বিগত দিনের তুলনায় এবছর আম গাছ গুলোতে বাম্পার মুকুল এসেছে। এমন কোন আম গাছ নেই যে গাছে আমের মুকুল ধরেনি।
আম গাছের মুকুলের অধিকাংশই ঝরে যায়। ১ থেকে ২% মুকুল টিকে থাকলে তাকে আমের ভালো ফলন হিসাবে ধরা হয়।অপর দিকে মুকুল থেকে গুটি পর্যন্ত যদি ১০-১৫ % টিকে থাকে তাকে আম উৎপাদনের বাম্পার ফলন হিসাবে ধরা হয়।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীতি কুমার সাহা বলেন, একটি পূর্ণ বয়স্ক আম গাছে যদি ৪০০ থেকে ৬০০ টি আম টিকে থাকে সে হিসাবে সেই আম গাছটিকে বাম্পার আমের ফলন হিসাবে ধরা হয়।
তিনি জানান,আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আম একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ করী দেশীয় ফল। আমের মুকুল ধরা থেকে প্যাকেজিং পরিবহন ও ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে বিপুল পরিমাণ জন গোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। তাই দেশীয় এই ফলটির উৎপাদন ধরে রাখতে কৃষি বিভাগের আরো সাবলীল চেষ্টা অত্যাবশ্যক।
