More

    ভোলার চারটি আসনে বিএনপি,বিজেপি জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে

    অবশ্যই পরুন

    জে এইচ রাজু স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে ভোলার চারটি সংসদীয় আসন। এসব আসন থেকে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি, জামায়াত ও বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে, এমনটাই মনে করছেন ভোটাররা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠে প্রার্থীরা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সৎ, যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিবেন ভোটাররা। অন্যদিকে নির্বাচনী এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    ভোলা-১ আসনঃ ১৩ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ভোলা সদর আসন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন বিজেপি’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।তিনি বিএনপির ১২ দলীয় জোট প্রার্থী। জামায়াত থেকে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা, রাজনৈতিক দলের মনোনীতি এসব প্রার্থীগন এখন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে ভোটাররা বলছেন, এ আসনে মূলত লড়াই হবে বিজেপি এবং জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। পার্থ বলেন, আমি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি, বিজয়ী হতে পারলে অবহেহিত ভোলাবাসীর উন্নয়নে ভোলা-বরিশাল সেতু, স্বাস্থ্যসেবা ও গ্যাসের সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করবো। জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, তাই জামায়াতকে বেছে নিবে। আমরা ভোলা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মান করবো। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী ওবায়েদ বিন মোস্তফা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদি উল্লেখ করে উন্নয়নে জনগনের পাশে থাকার কথা জানান। তারাও তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করতে মরিয়া। দলটির নেতা জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের নেতা পার্থকে বিজয়ী করতে মাঠে রয়েছি বিএনপি সমর্থিত আমরা ১২ দলীয় জোট। ভোলা সদর আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১২ হাজার ৮৭ জন। এ আসনের ভোটারা বলছেন, প্রতিশ্রুতি নয়, যারা এলাকার উন্নয়নে রাখবে তাকেই বেছে নিবেন।

    ভোলা-২ আসনঃ দুটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ১৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসন। এ আসন থেকে লড়ছেন বিএনপি সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম, জামায়াত থেকে ফাজলুল করীম, ইসলামী আন্দোলন থেকে রেজাউল করীর বোরহানী, সতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন মহিবুল্লাহ খোকন। এখানকার ভোটাররা মনে করছেন এ আসনে তুমুল প্রতাদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন। বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, বহিরাগতদের দিয়ে উত্তেনা ছড়িয়ে এলাকা ঘোলাটে করার চেস্টা করছে জামায়াত প্রার্থী। জনগন তাদের পাশে নেই। তিনি বলেন, আমরা বিজয়ী হতে পারলে জনগনে কল্যানে বাজ করবো, গ্যাস বিদ্যুৎ সুবিধা এবং বেকারদের কর্মসংস্থান করবো। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফাজলুর করীম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। জনগন আসাদের পাশে আছে, আমরা জয়ী হতে পারলে এলাকার উন্নয়ন করবো এবং সকল অনিয়ম দির্তীতির বিরুদ্ধে রুখে দাগাবো। ভোলা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬১৮ জন। ভোলা-৩ আসনঃ দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১৩ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত

    ভোলা-৩ (লালমোহন- তজুমদ্দিন আসন)। এ আসন থেকে লড়ছেন বিএনপির মেজর অবঃ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াত সমর্থিতদল বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) থেকে নেজামুল হক । এ আসনে ভোটের মাঠে এই দুজন গনসংযোগে ব্যস্ত প্রার্থীরা। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি মেজর অব হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি এলাকা থেকে বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জনগন আমার পাশে আছে। ভোলা-৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯০৬ জন।

    ভোলা-৪ আসন দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২১ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসন। এ আসন থেকে ১২ দলীয় জোটের বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন,তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।স্পস্টবাদী, মানবিক ও মাদক বিরোধী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তার শক্ত অবস্থান। ইসলামি ১১ দলের প্রার্থী জামায়াতের মোস্তফা কামাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কামাল হোসেন। এ আসনে প্রচারণা, গনসংযোগ এবং জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন।অর্ধ লক্ষাধিক বোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হবেন আশাবাদি। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে পারে জামায়াত বিএনপির মধ্যে। বিএনপির নুরুল ইসলাম নয়ন এবারই প্রথমবারের মত প্রার্থী হয়েছেন ভোলা-৪ আসন থেকে।তিনি এমপি হলে মন্ত্রী হবেন আশাবাদী দ্বীপ জেলার মানুষ।

    ভোলা-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৮ জন। এ ব্যাপারে জেলা রির্টানিং অফিসার ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীর রহমান বলেন, একটি সুষ্ঠ ভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে আইন সৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। প্রার্থীরা যাতে আচারনবিধি মেনে কাজ করে সেজন্য মনিটরিং করা হচ্ছে।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    বরগুনায় নিজ ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা : বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকলোনী স্টেডিয়াম এলাকায় রাবেয়া আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ...