স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ২নং ধানিসাফা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বুড়িরচর মমিন মসজিদ সংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সম্মুখ ৪০০ ফুট হেরিনবন রাস্তার ইট তুলে ফেললেন শেচ প্রকল্পের ঠিকাদার। যার নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। ক্লিনিকের সম্মুখ রাস্তার ইট তুলে ফেলায় যাতায়াতে দুর্ভোগে সম্মুখীন হচ্ছেন রোগীরা।
সরেজমিনে গেলে এ তথ্য জানা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার জানান শেচ প্রকল্পের ২০ বছর আগে স্থানীয় হাওলাদার বাড়ির সামনে রোডস এন্ড হাইওয়ে সাবেক ইঞ্জিনিয়ার মরহুম মতিউর রহমান বেপারীর সুপারিশে শেচ প্রোকল্পের একটি ড্রেন স্থাপনা করা হয়। ড্রেনটি নির্মাণের পর থেকে কোন সংস্কার না করায় সেটা আজকে বিলুপ্তের পথে।
বর্তমানে নতুন শেচ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত স্থাপনা মমিন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সম্মুখ রাস্তা থেকে নিলে, পাইপের মাথায় স্কুল মাঠ এরপরে মমিন মসজিদ পুকুর,আসলে আমরা বুঝি না এই পানি কোথায় যাবে? স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক কালাম হাওলাদার জানান, মমিন মসজিদ দেশের ইতিহাসের একটি অন্যতম নিদর্শন। সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এর রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। মমিন সাহেবের নাতি হিসেবে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মমিন মসজিদকে পুঁজি করে নেপথ থেকে, প্রতিবছর সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে ভুল বুঝিয়ে ইচ্ছে মতো বরাদ্দ নেন।

কিন্তু সেই বরাদ্দের অর্ধেক টাকারও কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করেন। যার ফলশ্রুতি আমরা দেখেছি ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী এমপি থাকাকালীন অবস্থায় ২০২৩/২৪ অর্থবছরে মসজিদের নামে একটি বাথরুম বাবৎ ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এনে দুই লাখ টাকারও কাজ করেননি । কারণ বাথরুম আগেই করা ছিল । তৎকালীন সময় প্রাইমারি স্কুল থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত ২০০ ফুট হেরিনবন রাস্তার টাকা বরাদ্দ করলেও সে সময় ১০০ ফুট রাস্তা করেন। বাকি যতটুকু রাস্তা ছিল বর্তমান ধানিসাফা প্রশাসক এর কাছ থেকে বরাদ্দ পাশ করলে বর্তমান খোকন মেম্বার এর মাধ্যমে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়
প্রায় ৪০০ ফুট, রাস্তা নির্মাণ শেষ একমাস পরে সম্পূর্ণ রাস্তা ইট তুলে ফেলা হয় শেচ প্রকল্প পাইপ নেওয়ার জন্য। রাস্তার দু পাশে শেচ প্রকল্পের পাইপ নেওয়ার জায়গা থাকলেও কাজ করছেন নিজের খেয়াল খুশি মত। বর্তমানে আবার মসজিদ (মাদ্রাসা) দেখিয়ে বাথরুম ওজুখানা নামে আরেকটি বরাদ্দ পাস করিয়ে নতুন স্থাপনার তৈরি করছেন। স্থানীয় আরো এক কৃষকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এই আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমেই কমিউনিটি ক্লিনিক এর সম্মুখ রাস্তা তুলে ফেলছে আজকের প্রায় একমাস।
এতে রোগীদের যাতায়াতে খুব কষ্ট হচ্ছে । এই আবুল কালাম আজাদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবাসন ঘর নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নামে গান তৈরি করে (এক মা আমায় জন্ম দিল এক মা দিল ঘড়) তৎকালীন সময় সেই গানটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছালে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই গানের মাধ্যমে। কমিউনিটি ক্লিনিক এর কর্মরত ডাক্তার মমিন বলেন, সপ্তাহে তিন দিন ক্লিনিকে আমি রোগী দেখি যাতায়াতের জন্য রাস্তাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটা তুলে ফেলা ঠিক হয়নি।
ওই গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন সিরাজী (ইসমাইল খলিফা) ক্ষোভের সাথে বলেন, মমিন মসজিদকে পুঁজি করে আবুল কালাম আজাদ সরকারি অর্থ বরাদ্দ এনে। নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এ ব্যাপারে আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন এ রাস্তা সরকারি না আর সরকারি থাকলেও শেচ পরকল্পের বিএডিসি ইঞ্জিনিয়ার রাজু সাহেব আমাকে রাস্তা ইট সরিয়ে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। মমিন মসজিদকে পুঁজি করে বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে বরাদ্দ এনে নিয়মমাফিক কাজ করেননি এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।
পিরোজপুর বিএডিসি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাজু বলেন, রাস্তার ইট সরানোর তো কোন কথা না। এ ব্যাপারে তো আমি কিছুই জানি না আমি দ্রুত ব্যবস্থা নেব। ২ নং ধানীসাফা ইউনিয়নের প্রশাসক ও মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বললে, এই রাস্তাটি আমি দিয়েছি ক্লিনিক জন্য । জনসাধারণ ও রোগীদের জন্য। কেন পরিষদের রাস্তা তিনি নষ্ট করলেন এই দায় তার নিতে হবে।
