পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় গত ১৮ দিনে পৃথক দুর্ঘটনায় ইটভাটা শ্রমিক, কৃষক, শিশু, গর্ভবতী মা ও নবজাতকসহ মোট পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে পুকুরে পড়ে আব্দুল্লাহ শিকদার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
পরিবারের অগোচরে খেলতে গিয়ে সে পানিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। এর আগে ৯ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে চন্ডিপুর ইউনিয়নের কেবিআই ইটভাটায় বৃষ্টিতে ভেজা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মো. ফারুক হোসেন মোড়ল (৪৫) নামে এক ইটভাটা শ্রমিক নিহত হন। সহকর্মীরা জানান, কাজের সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে ২৭ মার্চ উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষক মো. অদুদ খান মারা যান। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এদিকে ২৯ মার্চ উপজেলার খোলপটুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা বেগম (৩০)। তিনি দুই সন্তানের জননী ও অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া পথে চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি তিন দিন পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এ ধরনের একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার, শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
