বরিশাল নগরীর জিয়া সড়কের কালীখোলা এলাকায় প্রতিমা ভাঙচুর ও বটগাছ কাটার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মূল অভিযুক্ত গ্রেফতারের পর আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংবেদনশীল এই ঘটনায় তদন্ত শুরুর আগেই জামিন মঞ্জুর হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও অভিযোগকারী পক্ষ।
ঘটনাটি ঘটে ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। অভিযোগ রয়েছে, মিজানুর রহমান কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কুড়াল, দা ও শাবলসহ মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। এ সময় মন্দির সীমানার বটগাছ কাটার চেষ্টা করা হলে গাছের নিচে থাকা কালী ও শীতলার প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি বটগাছের ডালপালা কেটে মূল অংশেও আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত দত্ত লিটু। মামলায় মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অভিযোগকারী সুরঞ্জিত দত্ত লিটু দাবি করেন, মন্দিরের জমি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এমন ঘটনায় তদন্তের আগেই জামিন মঞ্জুর হওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন-উল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম সরদারও জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আদালত অভিযুক্তের জামিন অনুমোদন দেন। তবে সংবেদনশীল এ ঘটনায় দ্রুত জামিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
