ইন্দুরকানী ( পিরোজপুর) প্রতিনিধি: জাতীয় পার্টি জেপি ছেড়ে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার তিন চেয়ারম্যানসহ ২৭ ইউপি সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন বিএনপিতে। মঙ্গলবার রাজধানীর বিএনপির কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা দলটিতে যোগ দেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিনা রহমান ও বিলকিস জাহান, পিরোজপুর-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত, সাবেক সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলুসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এর আগে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টি জেপির আহবায়ক মো. শাহীন হাওলাদার, ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা জাতীয় পার্টি জেপির যুন্ম-আহবায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু এবং ৪নং ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টি জেপির সদস্য সচিব মাসুদ করিম তালুকদার ইমনসহ পাঁচটি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও নারী ইউপি সদস্যরা। যোগদানকৃত ইউপি সদস্যদের মধ্যে জেপির সহযোগী সংগঠন উপজেলা যুব সংহতির আহবায়ক ও ইন্দুরকানি সদর ইউপির সদস্য মজনু হোসেন রনি, উপজেলা ছাত্রসমাজের সাধারন সম্পাদক ও বালিপাড়া ইউপির সদস্য কেএম আল-শাহারিয়ার সহ অনেকেই এর আগে ইন্দুরকানি উপজেলায় জাতীয় পার্টি জেপির( মন্জু ) রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।
এক সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক জনপ্রতিনিধির বিএনপিতে যোগদানকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানান আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শীদের মাঝে দেখা গেছে নানান মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে জামায়াতের রাজনৈতিক অনুসারীরা এ বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্ন চোখে । এদের অতীত রাজনীতির পেক্ষাপট তুলে ধরে তাদের অনেকেই ফেসবুকে দিয়েছেন স্ট্যাটাস। তবে এই যোগদানে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের অনেকেই তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এদিকে সাধারন ভোটারদের অভিমত এ উপজেলাটির জনপ্রতিনিধিদের বড় একটি অংশ বিএনপিতে চলে যাওয়ায় সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারনা।
বিএনপির জেলা নেতৃবৃন্দ বলেন, পিরোজপুর জেলায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার হয়েছে এবং পিরোজপুর-১ আসনে দীর্ঘ ২৯ বছর পর দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তাই অনেকেই এখন বিএনপির সাথে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
