More

    বরিশালে শয্যাপাশে সন্তানের মৃত্যুর প্রহর গুণছেন অসহায় মা

    অবশ্যই পরুন

    মুখে অক্সিজেন নিয়ে গত ২২ দিন ধরে হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর প্রহর গুণছে মাত্র ৬ বছরের শিশু নিহান। শয্যা পাশে অসহায় মা নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছেন সন্তানের মুখের দিকে। কারণ সন্তানের মস্তিকে ধরা পড়া টিউমার অপসারণ করতে চিকিৎসক দাবি করেছেন তিন লাখ টাকা। কিন্তু মোটা অংকের এই টাকা জোগার করা নিহানের পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।

    তাই মুখে অক্সিজেন দেওয়া ছাড়া আর কোন চিকিৎসা চলছে না নিহানের। ‘মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবে না’ মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করে সন্তানের মৃত্যুর প্রহর গুণছেন তারা। জানাগেছে, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পূর্ব ফুলুহার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর রবিউল ইসলাম ও নাসরিন দম্পতির একমাত্র পুত্র নিহান। বর্তমানে বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন চরের বাড়ি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন তারা।

    নিহানের মা নাসরিন বেগম জানান, জন্মের পর থেকে নিহান সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল। মাস ছয়েক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন মাথায় টিউমার হয়েছে। দুই মাস পূর্বে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রপচার করে তার মস্তিস্কের টিউমার অপসারণ করা হয়। তিনি জানান, এরপর নিহান সুস্থ হয়ে ওঠে। মাস দুই সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে পুনরায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। দ্বিতীয় দফায় তার মস্তিস্কে টিউমার ধরা পড়ে। তখন সর্বস্ব খুয়িয়ে টিউমার অপারেশন করা হয়।

    কিন্তু এ দফায় আর সুস্থ হয়নি। ঢাকায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর বরিশালে এনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে অজ্ঞান অবস্থায় আছে নিহান। মা নাসরিন বলেন, বরিশাল পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. মাহফুজুর রহমানকে দেখানোর পর তিনি মাথার সিটি স্ক্যান করিয়েছেন। সেখানে পুনরায় মস্তিস্কে টিউমার ধরা পড়েছে। টিউমার অপারেশনে জন্য তিন লাখ টাকা চেয়েছেন তিনি। কিন্তু এতো টাকা জোগার করা আমাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

    তিনি বলেন, ঢাকায় দুই দফা অপারেশন করাতে গিয়ে সহায় সম্ভল যা ছিল সব শেষ করে ফেলেছি। আমার স্বামী দিনমজুর। দিন আনে দিন খাই। এখন নতুন করে তিন লাখ টাকা জোগার করা আমাদের মত নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিহানকে বার বার ঢাকায় নিয়ে অপারেশন করতে বলছেন। কিন্তু টাকার অভাবে সেটা পারছি না।

    তাই এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্রে লিখিত অঙ্গীকার করতে হয়েছে যে, ‘আমার বাচ্চার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও এখানে রেখে চিকিৎসা করাচ্ছি। কোন ক্ষতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবে না।’ এটা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করণীয় নেই। এই মুহূর্তে ছোট্ট শিশু নিহানকে সুচিকিৎসা করে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সাহাজ্জেল হাত বাড়িয়েছেন তার অসহায় বাবা-মা।

    হয়তো তাদের সামান্য কিছু দানের টাকায় নতুন জীবনে ফিরতে পারে ছোট্ট শিশু নিহান, হাসি ফোটতে পারে তার অসহায় বাবা-মায়ের মুখে। স্বহৃদয়বান ব্যক্তিরা নিহানকে সাহায্য পাঠাতে পারেন তার চাচা দুলাল হাওলাদারের নগদ অথবা বিকাশ নম্বরে। নম্বরটি হলো- ০১৭৪৫৫৬৬৭২১।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Navegar sin complicaciones entre los mejores casino online nunca fue tan sencillo

    Cómo elegir y disfrutar de los mejores casino online sin complicaciones Explorando el mundo de los mejores casino online: una...