ঝালকাঠি , মো:মেহেদী হাসান: ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী সমীকরণ আরও ঘনীভূত হয়েছে। দশ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডক্টর ফয়জুল হককে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা আলম মিতু এই সমর্থনের ঘোষণা দেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডক্টর ফয়জুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা আলম মিতু, এনসিপি নেতা মো. আহাদ ইসলাম, কাঁঠালিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীরসহ স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যের শুরুতে ডক্টর ফয়জুল হক তাকে সমর্থন দেওয়ায় এনসিপি নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন,
”আমি কাঁঠালিয়া ও রাজাপুরকে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির মাধ্যমে একটি ইনসাফভিত্তিক আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।”
সম্প্রতি তাকে নিয়ে বিভিন্ন আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং সকলকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা আলম মিতু তার বক্তব্যে জোটের ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন,
”দশ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে সমর্থন দিচ্ছি। ডক্টর ফয়জুল হককে বিজয়ী করতে এনসিপির সকল নেতা-কর্মী মাঠে থেকে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে জনগণের রায় সুনিশ্চিত করতে হবে। এনসিপি নেতা আহাদ ইসলামও তার বক্তব্যে গণভোটে অংশ নিয়ে জনমতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কাঁঠালিয়াকে একটি সাজানো এবং সুশৃঙ্খল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করার শপথ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং ডা. মিতুর মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীর অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো। আসন্ন নির্বাচনে এই জোটবদ্ধ প্রচার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
