ঝালকাঠি প্রতিনিধি,মোঃমেহেদী হাসান: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বিনাপানি এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় মামলার অন্যতম আসামি মো. রমজান সরদারকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এই ভিডিওর সত্যতা এবং ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে পরস্পরবিরোধী দাবি পাওয়া গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিনাপানি এলাকার প্রবাসীর স্ত্রী মোসা. হাফিজার একটি আপত্তিকর ভিডিও সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয় কম্পিউটার দোকানদার মো. রায়হান হোসেন (২২) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার একটি ভুয়া ভিডিও তৈরি করে সম্মানহানির উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনায় মো. রায়হান হোসেনকে প্রধান আসামি করে তার ভাই এর স্ত্রী ও ভাইয়ের শ্যালকের স্ত্রীসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে সাইবার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে প্রধান আসামি ও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি ”ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মোটেও এআই দিয়ে তৈরি কোনো ভুয়া ভিডিও নয়। বরং ভিডিওর নেপথ্যে থাকা পরকীয়া সংক্রান্ত প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আসামিদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করতেই বাদী এই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছেন।”
মামলার প্রধান আসামি মো. রায়হান হোসেন (২২) বেশ কিছুদিন আগেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। আজ ০৪ মার্চ ২০২৬, বুধবার সকালে ভিডিওতে থাকা অপর অভিযুক্ত মো. সিদ্দিক সরদারের ছেলে মো. রমজান সরদারকে (২২) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় থানা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান: ”সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় এজাহারনামীয় আসামি মো. রমজান সরদারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে প্রধান আসামি রায়হান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও পুলিশের নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”
