বাকেরগঞ্জে পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতারকালে পুলিশি নির্যাতনে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১৮ এপ্রিল শনিবার বেলা ১.৩০ টার সময় পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাঠেরপুল এলাকায় পরোয়ানা ভুক্ত আসামি রেজাউল হাওলাদার (২২) কে পুলিশ গ্রেফতারের সময় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেফতারকৃত রেজাউল উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের খাস মহেশপুর গ্রামের মোশারেফ হাওলাদারের পুত্র।
পুলিশ গ্রেফতারের পর আহত রেজাউলকে বেলা ২.১৫ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তড়িঘড়ি করে বরিশালে আদালতে প্রেরণ করেছেন।
রেজাউলের মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করে বলেন, বাকেরগঞ্জ থানার এস আই সবিতা রানী তার পুত্র রেজাউলকে গ্রেপ্তারের নামে বিনা অপরাধে নির্যাতন করেছে। তার ছেলের বউ তুবা আক্তার ঝালকাঠী আদালতে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা দেয় এটি তাদের জানা ছিল না।
শনিবার দুপুরে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাঠেরপুল অনিকের সেলুনে চুল কাটতে গেলে বাকেরগঞ্জ থানার এস আই সবিতা পুলিশের একটি টিম নিয়ে তার পুত্রকে গ্রেফতার করতে গেলে সে ওয়ারেন্টের কাগজ দেখতে চায়। এই অপরাধে এস আই সবিতা ও পুলিশ সদস্যরা তার পুত্র রেজাউলকে মারধর করে টেনেহিচরে অটো গাড়িতে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে পুনরায় নির্যাতন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত যুবক রেজাউলের মা শিল্পী বেগম অভিযুক্ত এস আই সবিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কাঠেরপুল এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী তারা বানু জানান, রেজাউলকে গ্রেফতার করে অটো গাড়িতে তোলার সময় দারোগা সবিতা তাকে চড় থাপ্পড় দিয়েছে। তাকে গ্রেফতারের কারণ জানতে চাওয়ায় পুলিশ এ মারধর করে।
গ্রেফতারকৃত রেজাউলের বোন ডালিম বেগম জানান, তার ভাইকে গ্রেপ্তারের সময় ও থানায় নিয়ে এস আই সবিতা মারধর করে মানবাধিকার লংঘন করেছে। এমনকি তার ভাইকে মারধরের বিষয়টি জানাজানির ভয়ে থানার পিছনের দরজা থেকে নামিয়ে গোপনে বরিশালে আদালতে প্রেরণ করেন। আদালতে প্রেরণকাল তার ভাই পুলিশ নির্যাতনের বিষয়টি তাদের জানিয়েছে। আসামি গ্রেফতারকালে পুলিশের নির্যাতনের কোন সুযোগ না থাকলেও কোন আইনে এস আই সবিতা তার ভাইকে মারধর করেছে এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, শনিবার বেলা ২.১৫ টার দিকে রেজাউলকে বাকেরগঞ্জ থানার এস আই সবিতা চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়। রেজাউলের বুকে ও পায়ে আহতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ তাদের জানায় গ্রেপ্তারের সময় তার বুকে নখের আঁচর লেগেছে।
অভিযুক্ত এস আই সবিতা বলছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তিনি পুলিশসহ রেজাউলকে গ্রেফতারের জন্য ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে থানায় বসে পুলিশ হেফাজতে যদি অন্য কেউ নির্যাতন করে তার দায়দায়িত্ব তার নয়।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, আসামি গ্রেফতারকালে পুলিশের মারধর বা নির্যাতনের কোন সুযোগ নেই। যদি এস আই সবিতা আসামি গ্রেফতারকালে কোন নির্যাতন করে থাকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
