রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তন শুরু হয়েছে। একদিকে উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারসহ দুই নেতার পদত্যাগ এবং জামায়াতে যোগদানের গুঞ্জন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী মেয়র ও নেতাদের ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগে নামার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য ও উপজেলা শাখার ২ নম্বর সহ-সভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার এবং পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক আ. গাফফার হোসেন বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারী) জেলা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। জানা গেছে, বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সঙ্গে মাহবুব মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
গত জুলাইতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বানারীপাড়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের পদ না পাওয়ায় মাহবুব মাস্টারের অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই পদত্যাগের মাধ্যমে। পদত্যাগের কারণ হিসেবে মাহবুব মাস্টার জানান, চার দশক নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেও লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দলে এখন টাকায় মনোনয়ন বিক্রি হয় এবং নেতাদের কাছে কর্মীরা প্রতারিত হচ্ছে।’ মাহবুব মাস্টারের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার বিকালে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর একটি উঠান বৈঠকে তারা বিশাল অনুসারীসহ জামায়াতে যোগদান করবেন। তবে মাহবুব মাস্টার সরাসরি যোগদানের কথা স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতিতেই থাকব, কোন দলে যাব দু-এক দিনের মধ্যে জানতে পারবেন।’
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, পদত্যাগের কথা শুনেছেন। মাহবুব মাস্টারের অভিমান ভাঙিয়ে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এদিকে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। বৃহস্পতিবার বানারীপাড়া পৌর শহরে বরিশাল-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও টানা ১৭ বছরের সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর সাইদুর রহমান শাহজাহান ,উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক জগন্নাথ প্রমুখ।
গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশ ছেড়ে গেছেন, দল নিষিদ্ধ হয়েছে। আপাতত রাজনীতি করছি না। আমরা জামায়াত করতে পারি না এবং জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমরা ধানের শীষের জন্য কাজ করছি।
