আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল—১ আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এটা নিশ্চিত করেই বলছেন সাধারন ভোটাররা।
বরিশালে ৬ আসনের মধ্যে সবার দৃষ্টি মূলত বরিশাল—১ আসনের এর দিকে। এবার বরিশাল—১ (গৌরনদী—আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদী (হাতপাখা), বিএনপির বহিস্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান (ফুটবল) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী (বাই সাইকেল)।
এই আসনে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক হিসাব—নিকাশ। ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দল। রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সাংগঠনিক দুর্বলতায় আওয়ামী লীগ মাঠের বাইরে, আর জাতীয় পার্টি কার্যত নিষ্ক্রীয়। ফলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে জামায়াতে ইসলামীও নতুন উদ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে নির্বাচনী মাঠে।
গত দেড় দশকে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল না। এবার ভোটের আমেজ ফিরেছে নতুন আঙ্গিকে। জেলার এই আসনেই সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি—জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। ভোটারদের উপস্থিতি, আলোচনা ও আগ্রহে বোঝা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাশা অনেক বড়। সাধারণ ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তারা বলছেন, যোগ্য, সৎ, নির্ভীক ও জবাবদিহিমূলক প্রার্থীই তাদের পছন্দ।
নতুন ভোটারদের মধ্যেও চলছে অতীত—ভবিষ্যতের হিসাব, কে কী করেছেন এবং কে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারবেন, সেটাই তাদের বিবেচ্য বিষয়। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বি হলেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি নয়। তাদের মতে, জহির উদ্দিন স্বপন বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। অপরদিকে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিএনপির সঙ্গেই তাদের মূল লড়াই চলছে এবং শেষ পর্যন্ত তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা বিজয়ী হবেন।
