বরিশালের শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ইনজেকশন প্রয়োগের পর দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৬ মার্চ) বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ এ আদেশ দেন। আদালত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, গত রোববার (১৫ মার্চ) শেবাচিম হাসপাতালে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের পর মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু হয়-এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মনীর নার্সদের গাফিলতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংবাদে উঠে এসেছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ প্রেক্ষিতে আদালত মনে করেন, জনস্বার্থ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শুধু প্রশাসনিক তদন্ত নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান প্রয়োজন। তদন্ত কর্মকর্তাকে যে-সব বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে,ইনজেকশন বা অ্যানেস্থেশিয়া প্রদানকারী ব্যক্তির যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই,অপারেশনের সময় চিকিৎসকের উপস্থিতি বা তত্ত্বাবধান ছিল কিনা,প্রি-অ্যানেস্থেটিক চেকআপসহ নির্ধারিত চিকিৎসা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং চিকিৎসক, নার্স বা সংশ্লিষ্টদের কোনো অবহেলা ছিল কি না।
এছাড়া, এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি মামলা হয়েছে কি না, হাসপাতালের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবহেলা রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একজন রোগী চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসা নেন-সেখানে সামান্য অবহেলাও বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণসহ আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
