More

    বরিশালে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তায় এসেছে বিশেষ হেলিকপ্টার

    অবশ্যই পরুন

    বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলার মধ্যে ১৩টি দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সরকারি নথিতে ২ হাজার ৮৩৮টি ভোট কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ৩৪টি কেন্দ্র বিদ্যুৎবিহীন। ঝুঁকিপূর্ণ এই কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করাসহ ভোটারদের নির্বিঘ্নে আসার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ভোটারসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বরাদ্দ এসেছে একটি বিশেষ হেলিকপ্টার, যা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বরিশালের আকাশে দেখা যেতে পারে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারিও বরিশালের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা প্রতিস্থাপনের কাজ চলে। দ্রুত সময়ে সকল কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যস্ততা দেখা যায়।

    কমিশনের এই উদ্যোগে প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটদের মধ্যেও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শোনা গেছে। দেশের সবচে বেশি নদীবেষ্টিত বিভাগ বরিশালে এমন বেশ কয়েকটি উপজেলা রয়েছে যা মূল শহর থেকে একদম বিচ্ছিন্ন। যাতায়াতে ভরসা নৌ পথ, আছে চরাঞ্চলসহ একেবারে দুর্গম উপজেলা। বিভাগে দুই হাজার ৮৩৮টি কেন্দ্রে হবে ভোটগ্রহণ।

    বিভাগীয় প্রশাসন বলছে, এসব কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ। মাত্র ২৩৯টি কেন্দ্রে আগে থেকে আছে সিসি ক্যামেরা। আর বিদ্যুৎ নেই ৩৪টি কেন্দ্রে। আর বিভাগের ৪২ উপজেলার ১৩টিই দুর্গম। যার মধ্যে বরিশাল জেলাতেই অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রই ২১২টি। এখানে মোট কেন্দ্র ৮৩৩টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ১৯৬ টি। বরগুনা জেলায় মোট কেন্দ্র ৩১২টি, যার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৬৯টি। পটুয়াখালীর ৫১৩টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৮০টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৫টি।

    দ্বীপজেলা ভোলায় ৫২৫টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৫৪টি আর অতি ঝূঁকিপূর্ণ ৯৯টি। ঝালকাঠি জেলাতে ২৩৭ টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ন ৮৩ ও অতিঝূুকিপূর্ণ ৫০ ও পিরোজপুরের ৪১৮ কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৯ টি ও অতিঝুঁকিপূর্ণ ৫৬টি। এছাড়া বিভাগের বেতাগী, পাথরঘাটা, বামনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া, দশমিনা, চরফ্যাশন, মনপুরা, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী এবং কাউখালী উপজেলাকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম রূপালী বাংলাদেশতে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা নজরদারিতে আনতে হবে দুর্গম এলাকাগুলো।

    নির্বাচন কমিশনও সেই লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছে, এতে স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিকতা আছে। সেক্ষেত্রে এবারের নির্বাচন ব্যতিক্রম এবং সহিংসতামুক্ত করার সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘ভৌগোলিক কারণে বরিশাল বিভাগকে ভাগ করা হয়েছে কয়েকটি নিরাপত্তা স্তরে। ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার উপকূলীয় আসনগুলোতে নৌ-বাহিনী এবং কোস্টগার্ডের বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হয়েছে সর্বত্র।

    দুর্গম আসনগুলোতে ব্যবহার হবে ড্রোন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বরাদ্দ এসেছে একটি বিশেষ হেলিকপ্টারও। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২১টি সংসদীয় আসনে মোট ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি উল্লেখসংখ্যক এই ভোটারদের কত শতাংশ ভোট দেবেন এবং তাদের নিরাপত্তায় সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটুকু নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।’

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    রমজানে ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

    আসন্ন পবিত্র রমজানে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য...