পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল লঞ্চঘাট টার্মিনাল এলাকায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া যুবক হাসান হাওলাদার (২৮)-এর এখনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার প্রায় ২১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ও বাংলাদেশ নৌ পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলখালী গ্রামের নুরু হাওলাদারের ছেলে হাসান হাওলাদার মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে তার বোনজামাই ইলিয়াসসহ তিন আত্মীয়ের সঙ্গে চরকাজল এলাকায় যান। পরে গলাচিপায় ফেরার পথে চরকাজল লঞ্চঘাট টার্মিনালে পৌঁছালে হাসান বাথরুমে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত তিনি নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
রাতভর অনুসন্ধান চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আবারও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে নদীতে জাল ফেলে এবং ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নৌ পুলিশের রাঙ্গাবালী ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর রতন জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
নদীর স্রোত ও গভীরতা বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গলাচিপা থানার ওসি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এদিকে হাসানের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে চলছে আহাজারি।
স্বজনদের একটাই আকুতি- জীবিত কিংবা মরদেহ, যেকোনো অবস্থায় যেন হাসানকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। নদীতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
