আরিফ তৌহীদ: পাথরঘাটা(বরগুনা) প্রতিনিধি: সমুদ্র জলদস্যু মুক্ত রাখার দাবীতে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির উদ্যোগে পাথরঘাটায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর ফের সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলজুড়ে জেলে ও মৎস্যজীবীদের মাঝে ফের জলদস্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত ৪দিন আগে ২জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষুব্ধ জেলে ট্রলার মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় বিগত সরকারের আমলে বঙ্গোপসাগর জলদস্যুমুক্ত করা হয়েছিল। তখন জেলেরা নদীতে নিরাপদে মাছ শিকার করতে পেরেছে। দীর্ঘদিন বিরতির পর ওই জলদস্যু ডাকাতদল ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের তান্ডবের পর এখন আতঙ্কগ্রস্ত জেলেরা আর নদীতে যেতে চাচ্ছে না।
বর্তমানে নতুন সরকারের কাছে আবারো দক্ষিণ উপকূলের জেলে ও মতস্যজীবীরা বঙ্গোপসাগর সহ তৎসংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পরার জলদস্যুদের দমনের জন্য জোড় দাবী জানানো হয় এই মানববন্ধন থেকে।
গত কয়েকদিন ধরে সাগর ও নদীতে জেলে বহরে হামলা, লুটপাট, অপহরণ ও গুলিবর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আজ পাথরঘাটায় মানববন্ধন করেছে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য আড়ৎদার সমিতি, বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতি, বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বিএফডিসি মৎস্য বাজার ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নসহ কয়েক হাজার মৎস্যজীবী।
পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি।
জেলেদের অভিযোগ, ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর নামে পরিচিত দুই জলদস্যু চক্র সম্প্রতি সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে ট্রলার ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকায় পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝির ট্রলারসহ তাকে এবং আরও চারজন জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মাসুম মাঝি মুক্তি পেলেও তার ট্রলারের তিন মাঝি—মাহবুব (২৭), সোহেল (১৭) ও রাজু (২৬)—এখনও জলদস্যুদ ডাকাতের হাতে আটক রয়েছে।
এদিকে বুধবার দুপুরে জলদস্যুরা জেলে রাজু (৩১) ও কাঁকড়া শিকারি নিহার মণ্ডল (৪৫)-কে এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। তারা ট্রলারযোগে পাথরঘাটা মৎস্য ঘাটে ফেরার পথে আরেকটি জলদস্যু দল তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
মুক্ত হয়ে ফেরা নিহার মণ্ডল জানান, তিনি প্রতি মাসে মাসোহারা দিয়ে সুন্দরবনের পাঠাকাটা এলাকায় কাঁকড়া শিকার করতেন। টাকা দেওয়ার পরও তাকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখা হয়। পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হলে এক লাখ টাকা দেওয়ার পর তিনি মুক্তি পান।
অপর জেলে রাজু জানান, কটকা এলাকায় জাল ফেলতে গেলে জলদস্যুরা ট্রলারসহ তাদের ধরে নিয়ে যায় এবং কয়েকদিন আটকে রাখে। মুক্তি পাওয়ার পর ফেরার সময় আরেকটি দস্যু দল তাদের পুনরায় আটক করার চেষ্টা করলে তারা দ্রুত ট্রলার চালিয়ে পালিয়ে আসেন। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলেও কেউ হতাহত হননি।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মাসুম, আবুল হোসেন ফরাজী, দুলাল মাস্টার, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা দ্রুত জলদস্যু দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার, নিয়মিত নৌ টহল বৃদ্ধি এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। তারা বলেন, দস্যুদের দৌরাত্ম্যে জেলেরা সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, ফলে উপকূলীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, জেলেদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি । বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
