More

    পাথরঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ–দখল বাণিজ্যের অভিযোগ

    অবশ্যই পরুন

    আরিফ তৌহীদ, পাথরঘাটা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারি জমি দখলে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর এক কর্মকর্তা মামুনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ও সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে সহযোগিতার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা, টেংড়া বাজার সংলগ্ন এলাকা, নাচনাপাড়া, কাকচিড়া, বাইনচটকি, কালমেঘা, জ্ঞানপাড়া কাঞ্চুরহাট, চরদোয়ানী ইউনিয়নের মাছের খাল বাজার, বান্ধাঘাটা—সহ একাধিক স্থানে হাট-বাজার ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। অনেকেই বেড়িবাঁধের ওপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। এছাড়া বাঁধের ঢালে ভূমিহীন পরিবারগুলোর বসবাসের ঘটনাও রয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থানে বহুতল ভবন ও ছোট-বড় অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে “ম্যানেজ” করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর বা দোকান তুলতে ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকারও বেশি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, পাথরঘাটা পৌরশহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্লট বরাদ্দ দিয়ে স্থাপনার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের মামুনকে টাকা দিয়েই কাজ করছেন।

    এছাড়া নিজলাঠিমা টেংড়া বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর বন বিভাগের রোপণ করা হাজারো চারা গাছ কেটে ঘর নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের বাধা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে ঘর তোলা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে “ম্যানেজ” করার কথাও বলা হয়েছে।

    জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও ঘর তোলার অনুমতি পাননি। পরে এমাদুল গাজী নামে অপর একজন ২ লাখ টাকা দেওয়ার পর কাজের অনুমতি পেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

    পাথরঘাটা বন বিভাগের সদর বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, সরকারি জমি ও সংরক্ষিত বনায়নের গাছ কেটে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ বহুবার পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম সগীর বলেন, বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘর তোলার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ তার কাছেও এসেছে। তার ভাষায়, “যেভাবে শুনছি, মনে হয় পাথরঘাটার মালিক যেন তিনিই।”

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাথরঘাটা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. মামুনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

    কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

    বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বোর্ডের নাম ব্যবহার করে টাকা নিচ্ছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নিশ্চিত নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

    স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সরকারি সম্পদ রক্ষা পায় এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হয়।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    Navigating Grosvenor Sport feels surprisingly effortless even for first-timers

    Exploring Grosvenor Sport: A User-Friendly Guide for Newcomers Why Grosvenor Sport Stands Out for Beginners For anyone stepping into the world...