More

    বরগুনার সাগরে দস্যুতা আতঙ্ক: ট্রলারে হামলা, নিখোঁজ জেলে; নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    অবশ্যই পরুন

    সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গোপসাগরের বরগুনা উপকূলীয় এলাকায় সাগরে দস্যুতা, ডাকাতি, হামলা ও অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পাথরঘাটা ও আশপাশের সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা প্রায়ই দস্যুদের হামলা, লুটপাট এবং মুক্তিপণ দাবির শিকার হচ্ছেন।

    ফলে গভীর সমুদ্রে জীবিকা নির্বাহ করতে যাওয়া হাজারো জেলের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (৪ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় একটি ফিশিং ট্রলারে হামলা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাণভয়ে সাগরে ঝাঁপ দিয়ে দুই জেলে নিখোঁজ হয়েছেন এবং হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন জেলে।

    আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জেলেদের অভিযোগ, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এফবি মায়ের দোয়া নামের একটি ট্রলারের জালের ওপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এফবি মুন্না নামের একটি অবৈধ কাঠের ট্রলিং বোট। এতে জেলেরা বাধা দিলে ওই ট্রলার থেকে প্রথমে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকটি ট্রলিং বোট এসে ফিশিং ট্রলারটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

    এ সময় ট্রলিং বোটের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রলারে উঠে জেলেদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায় এবং মারধর করে। হামলার একপর্যায়ে প্রাণভয়ে জসিম ও হিরু বয়াতী নামে দুই জেলে সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে হামলাকারীরা চলে গেলে আহত জেলেদের উদ্ধার করা হলেও ওই দুই জেলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আহত জেলেরা পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ও ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, সমুদ্রে অবৈধ ট্রলিং বোটের আধিপত্য, দস্যুদের উৎপাত এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণে এমন ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। অনেক সময় জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণও দাবি করা হয়।

    ফলে জীবিকার তাগিদে সাগরে গেলেও প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বাগেরহাটের কিছু অবৈধ কাঠের ট্রলিং বোট এ হামলার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জেলেরা হামলাকারী ট্রলারগুলো শনাক্ত করেছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। উপকূলীয় জেলেরা বলছেন, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না হলে এবং দস্যুতা দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এজন্য তারা নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    সম্পর্কিত সংবাদ

    সর্বশেষ সংবাদ

    লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌর নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মহিম (২৫) নামের এক মটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।...